০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬

তলিয়েছে বাড়ি-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্ধ পড়াশোনাও—এইচএসসি নিয়ে কী ভাবছে কর্তৃপক্ষ

বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে  © টিডিসি ফটো

চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরি আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দেশের অন্তত চার বিভাগের অনেক জেলায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ বিভাগের কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর বিশাল অংশ পানির নীচে। এতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতও করেছিল। এসব এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও পানির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা বাড়ি-ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পানিয়ে তলিয়ে গেছে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন সাইক্লোন সেন্টারে। এ অবস্থায় অনেক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। এরইমধ্যে পরীক্ষা হলে অনেকে অংশ নিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন। প্রস্তুতি ছাড়া পরীক্ষা খারাপ হলে ফলাফলেও প্রভাব পড়বে বলে তারা উৎকণ্ঠায় আছেন।

যদিও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আকতারুজ্জামান। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। শনিবারের পরীক্ষার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত তাদের ওপরে নির্ভর করছে। তারা স্থানীয় পরিস্থিতির যে তথ্য জানাবেন, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমরা আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেব, যাতে তারা সার্বিকভাবে পর্যাপ্ত সময় পায়।’

শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক) মাদ্রাসার আলিমের ইংরেজি প্রথম পত্র ও কারিগরি বোর্ডের হিসাব বিজ্ঞান নীতি ও প্রয়োগ-২ পরীক্ষা। এ বিষয়ে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (প্রেষণ) অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে ‘আমরা আবহাওয়া অফিসে কথা বলেছি। বৃহস্পতিবারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছে।’

কক্সবাজারে বন্যার পানিয়ে তলিয়ে আছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, মন্ত্রণালয়সহ সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এর আগে বুধবারের (৮ জুলাই) উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ পরীক্ষার নতুন তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সব পরীক্ষা হওয়ার পর স্থগিত পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মহেশখালী উপজেলার আলিম পরীক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত হানিফ বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। আমাদের বাড়িতে পানি উঠে গেছে, পড়াশোনার পরিবেশও নেই। তবে যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তাহলে সামনে যেসব পরীক্ষা আছে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে হবে কিনা, তা নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত।’

আরেক পরীক্ষার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘চলমান বৃষ্টির পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আজ চার দিন থেকে কক্সবাজারের সাথে মহেশখালীর নৌ যোগাযোগ বন্ধ আছে। এমন অবস্থায় একটি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো কীভাবে দেব, সেটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা চাই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিক।’

চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (প্রেষণ) অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘সদ্যই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এখনও নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। সাধারণ সব পরীক্ষা শেষ হলে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

টানা কয়েক দিনের অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ছয় দিনের ব্যবধানে পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে বা ডুবে শিশু ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সব সাইক্লোন শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র)।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না আজ

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পাহাড়ধসে এবং তিনজন পানিতে ভেসে বা ডুবে মারা গেছেন। এর মধ্যে শুধু উখিয়ায় বুধবার পাহাড় ধসে অন্তত ৮ জন মারা গেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী। অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে।

টানা অতিবৃষ্টিতে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন মিশনপাড়া (পাগলির জিরি) এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় টানা বর্ষণে কারণে পাহাড়ধসে দুই কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বর্তমান বন্যা ও বৈরি পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মতামত বা তথ্য চায়নি। কেউ জানতে চাইলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষেই মত দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে। তবে যেসব এলাকার বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে বা প্লাবিত হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’