০৩ জুন ২০২৬, ১৪:০৯

যশোর শিক্ষা বোর্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি হলেও বেতন বৃদ্ধি হয় না!

যশোর শিক্ষা বোর্ড  © সংগৃহীত

যশোর শিক্ষা বোর্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি ও পদায়ন হলেও অনেক ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধি করা হয় না। একই পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে বেতনে বড় ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ বৈষম্যে ক্ষোভ বাড়লেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, নানা আবেদন-নিবেদনের পরও সমস্যার সমাধান হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডে ডেপুটি লেভেলের কর্মকর্তাদের অবস্থান বিভাগীয় কর্মকর্তাদের আগের পদ। ডেপুটি পর্যায়ের কর্মকর্তারা পঞ্চম গ্রেড। তবে বেতনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ অফিস, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সেকশন অফিসাররা নবম গ্রেড ও সহকারী অফিসাররা সপ্তম গ্রেডে বেতন পান।

অথচ যশোর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা সে নিয়ম অনুযায়ী বেতন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বোর্ডে ডেপুটি পর্যায়ের পদের মধ্যে উপসচিব (প্রশাসন ও সংস্থাপন), উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধমিক), উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধমিক), উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ডকুমেন্ট)। অথচ ডেপুটি পদগুলো সমপদ হলেও উপসচিব (প্রশাসন ও সংস্থাপন), উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ডকুমেন্ট) পদের কর্মকর্তারা ২৩ হাজার টাকার স্কেলে বেতন পান। উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) পদের কর্মকর্তা পান ৪৩ হাজার টাকা স্কেলে বেতন। এ বৈষম্য নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনে করে কোনো সমাধান পাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বোর্ডে সহকারী সচিব ১০ম গ্রেডে বেতন পান। তার গ্রেড হওয়ার কথা ছিল ৭ম গ্রেড, সেকশন অফিসারের ৯ম গ্রেডে বেতন পাওয়ার নিয়ম। কিন্তু নিয়মে তারা বেতন পান না। এ বিষয়ে বোর্ডের বেতন বৈষম্য শিকার হওয়া কর্মকর্তারা ২০০০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম বলেন, বোর্ডে প্রেষণে আসা বিসিএস কর্মকতারা যোগদান করলে শিক্ষা ক্যাডারের প্রাপ্ত গ্রেড অনুযায়ী বেতন বেশি পান। বোর্ডের প্রবিধানমালা অনুযায়ী স্থায়ী কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া হয়। এটি আদালতের রিটের বিষয় নয়। আগে-পরে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ার ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ করা হয়। সমপদে পদায়ন হলে বেতন বৃদ্ধি করা হয় না। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ড পরিচালিত হচ্ছে।