২৫ মে ২০২৬, ১২:৩৬

এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের টাকা গেল ডিসি-ইউএনও-শিক্ষা কর্মকর্তার পকেটে

প্রতিষ্ঠানপ্রধান, পরীক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা  © এআই দিয়ে তৈরিকৃত ছবি

২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা ঘিরে একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্রের তহবিল থেকে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ‘সম্মানী’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার অর্থ থেকে এ ধরনের সম্মানী দেওয়ার কারণে বাজেট ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র কমিটির ফির অর্থ থেকে ট্যাগ অফিসার, দায়িত্বরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিধিবহির্ভূত ভাবে জেলা প্রশাসককে ২ হাজার ৫০০ টাকা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কে ২ হাজার টাকা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ৩ হাজার টাকা, সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ১ হাজার ৫০০ টাকা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে ১ হাজার টাকা করে ‘সম্মানী’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে অর্থ দেওয়ার তথ্য কেন্দ্রের হিসাব খাতায় উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা পরিচালনা বিধিমালায় এ ধরনের সম্মানী প্রদানের কোনো বিধান নেই। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব তাদের নিয়মিত সরকারি কাজের অংশ। ফলে এসব দায়িত্ব পালনের বিপরীতে আলাদা অর্থ গ্রহণ সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।

অভিযোগ উঠেছে, এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এসব সম্মানী দিতে গিয়ে বড় ধরনের বাজেট ঘাটতিতে পড়েছেন। গত ১৩ মে তার স্বাক্ষরিত হিসাবপত্রে দেখা যায়, একটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের মোট আয় ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৯২ টাকা। বিপরীতে সম্মানীসহ মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৪০ টাকা। এতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৬৬৮ টাকা। পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা জনপ্রতি মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে পেয়েছেন। 

ঘাটতি পূরণের জন্য রাহমানিয়া মাদ্রাসা, ইটাখোলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালেহাবাদ মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ইটাখোলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমির হোসেন জাকারিয়া দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এ ধরনের বৈধ বা অবৈধ লেনদেনের দায় আমরা নিতে পারি না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ করে চলে গেছে। এখন এই টাকা আমরা কোথা থেকে দেব?’

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্মানী দেওয়া হয়ে থাকে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে বাধ্য নই।’

এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের সম্মানী গ্রহণ বিধিবহির্ভূত। মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’