১৭ মে ২০২৬, ২০:৩৩

৩ বিষয়ের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি, এসএসসির এক পরীক্ষার্থীকে নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করল বোর্ড

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড  © সংগৃহীত

চলতি এসএসসি পরীক্ষায় তিন বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ঢাকার ধামরাই উপজেলার কৈলাশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রায়হান। বিদ্যালয়ের সব বকেয়া পরিশোধের পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তিনি তিন বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কৈলাশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত পরীক্ষার্থী মো. রায়হান (রোল নম্বর: ৩০৪২৮০, রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৩১০৮৭২৬৪১), পিতা মো. গোলাম হোসেন, বাংলা প্রথমপত্র, বাংলা দ্বিতীয়পত্র ও ইংরেজি প্রথমপত্র—এই তিনটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ভালুম আতাউর রহমান খান উচ্চ বিদ্যালয়, কেন্দ্র কোড-১২৫।

এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বৈধ অধিকার থাকা সত্ত্বেও তাকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. শামিম হাওলাদার সবুজ ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক  এবিএম নিজাম উদ্দিন। 

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা নাজমা বেগম ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। 

ভুক্তভোগী রায়হান জানান, বিদ্যালয়ের সব পাওনাদি পরিশোধ করা সত্ত্বেও রহস্যজনক কোনো কারণে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রের প্রবেশপত্র আটকে রাখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার আগে স্কুলে গেলে তাকে বলা হয় তার প্রবেশপত্র আসেনি। কিন্তু পরবর্তীতে এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন, পরীক্ষার হলে তার নির্ধারিত আসন ফাঁকা থাকছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি আবার বিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নেন এবং জানতে পারেন, প্রবেশপত্র স্কুলেই ছিল, তবে তাকে দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে তিনটি পরীক্ষা মিস করেন তিনি।

রায়হানের মা দাবি করেন, চতুর্থ পরীক্ষার দিন সকালে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আমজাদ তাকে বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে রায়হান গেলে তার কাছ থেকে প্রবেশপত্র জোরপূর্বক নিতে চেষ্টা করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর ও আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। পরে কোনোভাবে সেখান থেকে বের হয়ে সে পরীক্ষায় অংশ নেয়।