০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৮

৪ ফুট বেঞ্চে একজন, ৬ ফুটে দুজন শিক্ষার্থী বসবেন

পরীক্ষার হল ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের লোগো  © সংগৃহীত

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে বেঞ্চ অনুযায়ী আসনবিন্যাস নির্ধারণ করাসহ ৩১টি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, ৫ থেকে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন এবং ৪ ফুট দৈর্ঘ্যের বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে। এর পাশাপাশি, পরীক্ষার হলে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ এবং প্রতিটি কক্ষে ন্যূনতম দুজন পরিদর্শক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কেউ দেরিতে এলে বিশেষ বিবেচনায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে, তবে তার তথ্য রেজিস্টারে লিখে রাখতে হবে।

এতে বলা হয়, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে এবং নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে।

প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে বোর্ড জানিয়েছে, সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্র আলাদা সেটে সিকিউরিটি খামে প্যাকেট করতে হবে। খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত সেট কোড নিশ্চিত হয়েই কেবল প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। অন্য সেট ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এতে আরও বলা হয়, ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে কেন্দ্রসচিব কেবল ছবি তোলা যায় না– এমন সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

নকল প্রতিরোধে কেন্দ্রের প্রবেশপথে পোস্টার টানানো, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের বাইরে জটলা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এমনকি পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের টয়লেট তল্লাশির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রবেশপত্র বিতরণ ও উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রসচিবদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে বিদ্যালয় প্রধানদের কাছে প্রবেশপত্র হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়া ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র সরবরাহ করা যাবে না এবং বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ।

এতে আরও বলা হয়, পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র বিষয়ভিত্তিক আলাদা প্যাকেটে সিলগালা করে বোর্ডে জমা দিতে হবে। পুরাতন ও নতুন সিলেবাসের উত্তরপত্র কোনো অবস্থাতেই একত্রে প্যাকেট করা যাবে না। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকবে, তবে যেসব দিন পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন শ্রেণি কার্যক্রম চালানো যাবে।