দেশের ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু হচ্ছে
দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এসব কেন্দ্রে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শেখার ব্যবস্থা করা হবে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ইউজিসির এক সদস্য একই ঘোষণা দেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস (বিআইএল) আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এপিস্টেমিক রিকনফিগারেশনস ইন ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ (ইআরএলএস) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন কেবল অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়। উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক বিনিময়, গবেষণায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভাষাগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বিদেশি ভাষা শিক্ষার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনা, জাপানি, কোরীয়, আরবি, জার্মান, ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাপানি, কোরীয়, চীনা, ইংরেজি ও আরবি ভাষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মাতৃভাষা ও বিদেশি ভাষার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে বাংলা ভাষার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তাই মাতৃভাষাকে জাতীয় পরিচয় ও সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে সমুন্নত রেখেই বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। বাংলার প্রতি শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিসরে যোগাযোগের ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
ভাষাশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ভাষা শিক্ষা শুধু যোগাযোগের দক্ষতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চিন্তাভাবনা, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও পরিচয়কে প্রভাবিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের তথ্য ও জ্ঞান দেওয়া নয়, বরং তাঁদের স্বাধীন চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, গবেষণার সক্ষমতা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা তৈরি করা।
‘ডিকলোনিয়াল ডায়ালগস, ট্রান্সফরমেটিভ পাথওয়েজ অ্যান্ড এমপাওয়ার্ড প্র্যাকটিসেস’ প্রতিপাদ্যে সম্মেলনটির আয়োজন করে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সৈয়দা সারওয়াত আবেদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের পরিচালক ও সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক শায়লা সুলতানা।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। এ উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন।