শিক্ষার্থীদের এই মুহূর্তে ঘাটতি কোথায়? যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ঘাটতি নেই, ঘাটতি মন্ত্রণালয়ের, অভিভাবকদের। তাদের যথাযথভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া যায়নি। সোমবার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক স্মার্ট, তারাই সবকিছু পরিবর্তন করেছে। তাদের ব্রেন বিভিন্ন বিষয় শেখার জন্য উন্মুক্ত। তবে আমরা তাদের প্রোপারলি গাইড করতে পারিনি। আমরা যারা লিড করছি, ডিরেকশন দিচ্ছি, রাষ্ট্র পরিচালনা করছি ঘাটতি তাদের। শিক্ষার্থীদের কোনো ঘাটতি নেই।’
সাক্ষাৎকারে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হলেও অতীতে দুই মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে কাজ করায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে প্রাইমারি শিক্ষাকে ক্লাস ওয়ান থেকে এইট পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং পরবর্তী স্তর পুনর্গঠনের চিন্তা থাকলেও দুই মন্ত্রণালয়ের বিভাজনের কারণে তা কার্যকর করা যায়নি।
বর্তমানে দুই মন্ত্রণালয় একই ছাতার নিচে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, একীভূত হয়ে কাজ করার ফলে ফাইল নিষ্পত্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। আমাদের দুই মন্ত্রণালয়ে কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকবে না। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এই নীতিতেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা যৌথভাবে তদারকি করায় শিক্ষা প্রশাসনে সমন্বয় বাড়বে।
তিনি বলেন, পিএইচডি এমন একটি ডিগ্রি, যেটা অবশ্যই যাচাইযোগ্য হতে হবে। অথচ দেশে এমন অনেক পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহৃত হচ্ছে, যেগুলোর সঠিক একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই।
তিনি জানান, বিদেশে দেওয়া পিএইচডি ডিগ্রিগুলো প্রকৃত ও স্বীকৃত কিনা—তা যাচাই করা প্রয়োজন। কোন বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি দিয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয় আদৌ স্বীকৃত কিনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন রয়েছে কিনা এসব বিষয় পর্যালোচনা করা দরকার।
প্রয়োজনে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে পিএইচডি ডিগ্রির তালিকা তৈরি ও যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পিএইচডি শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা না গেলে উচ্চশিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।