১৮৩৭ টাকার গ্যাস কিনতে হতো ২২০০-২৩০০ টাকায়, দাম বৃদ্ধির পর এখন কত লাগবে?
আগে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকার চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি দিয়ে কিনতে হতো। বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এই এলপিজি সিলিন্ডার এখন দাম বেড়েছে ২২৩ টাকা। সোমবার (২ নভেম্বর) নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি মাসেই দাম সমন্বয় করে সংস্থাটি। বিইআরসি এখন নতুন দাম ঠিক করেছে ২ হাজার ৬০ টাকা। গত মাসেও দাম বেড়েছিল ২১২ টাকা।
গ্রাহকরা বলছেন, নতুনভাবে দাম বাড়ার আগে গত দেড় মাস ধরে বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। ফলে দাম বৃদ্ধির পর সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এখন কত টাকা বেশি লাগবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলপিজি বাড়তি দামের কারণে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন ভোক্তারা। এ দুর্মূল্যের বাজারে বারবার সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির ফলে ত্রাহি অবস্থা তাদের। তবে বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতেও দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় মিলছে না সিলিন্ডার।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। অনেক স্থানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।
রাজধানী ঢাকার একাধিক ক্রেতা জানান, আগে যখন গ্যাসের দাম কম ছিল তখনই ২ হাজারের বেশি টাকা দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছি। এখন সরকারি দাম ২০৬০ হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা আরও বেশি করে নিচ্ছেন। এরকম চলতে থাকলে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
একই অবস্থা বিরাজ করছে গ্রামাঞ্চলেও। চট্টগ্রামের এক গৃহিণী জানান, ঢাকায় গ্যাসের অবস্থা তো সবাই জানে। কিন্তু গ্রামে এই অবস্থা আরও নাজুক। সেখানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এখন বেচে থাকাই দায়।
গ্যাসের বাড়তি দাম নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে আবদুল মাবুদ নামে একজন লিখেছেন, জনগণকে এখন চুরি করে হলেও রান্না করে খেতে হবে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, পাড়ায়, মহল্লায় ২৬৫০ টাকা করে এলপিজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। এদেরকে কি সরকার ধরবে না। রাষ্ট্রের ভুল পরিকল্পনার কারণে বারংবার জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীতে সরকারি নির্ধারিত দর ২০৬০ টাকার পরিবর্তে ২৪০০ টাকায় গ্যাস বিক্রি করায় মেসার্স তাওহীদা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
জানা যায়, দেশের বাজারে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। ফলে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ কমে গেছে। বেশির ভাগ দোকানে বা ডিপোতে পড়ে আছে খালি সিলিন্ডার। বড় কোম্পানিগুলোর এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করছে না বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। ডিলারদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয় বলে অভিযোগ তাদের। বিক্রিও নেমে এসেছে অর্ধেকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলিন্ডারের দাম ঠিক রাখতে কোম্পানি ও ডিলার পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে বাজার ঠিক করা যাবে না। ডিলাররা বাড়তি দাম নেয় কিন্তু ভাউচার দেয় না।
এদিকে অনেক ডিলার বাড়তি দামের কারণে কোম্পানি থেকে সিলিন্ডার আনছেন না। বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করলে নানা হয়রানিতে পড়তে হয় তাদের।
রাজধানীর সাব্বির এলপিজির ম্যানেজার সুব্রত দাস মিঠু জানান, কেনা দামই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি পড়ে, যে কারণে তারা সিলিন্ডার আনা বন্ধ রেখেছেন। বিষয়টি সমাধান করা উচিত।
এদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলাররা আগেই দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ডিলারদের ভাষ্য, কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এবং পরিবহন খরচ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাড়ায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও সচেতন মহলের মতে, শুধু কাগজে-কলমে দাম নির্ধারণ করলেই চলবে না; মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে এভাবেই অতিরিক্ত অর্থ কাটতে থাকবে। জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।