০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১১

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন বাধা, অনুমতি পায়নি কোনো জাহাজ

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে জাহাজ  © সংগৃহীত

সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ চালু হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে, তবে এখনো কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি পায়নি। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথের সাতটি জাহাজ রুট পারমিট চেয়ে আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় সেগুলোর কোনোটিকে অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ফলে ভ্রমণের সুযোগ চালু হওয়ার পরও পর্যটকদের দ্বীপে যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য সাতটি পর্যটকবাহী জাহাজের মালিকপক্ষ রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের আবেদন করেছে। তবে আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সনদ ও নথিপত্র জমা না দেওয়ায় অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে সোমবার জাহাজমালিকদের চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেছে সংস্থাটি।

বিআইডব্লিউটিএর নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক সালমা আক্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া ও এমভি টেকনাফের মালিকপক্ষ গত ৬ ও ৭ অক্টোবর রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। এসব জাহাজের অনুকূলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র পাওয়া গেছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে এমভি কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, এমভি কেয়ারি সিন্দাবাদ, এলসিটি কাজল ও এমভি বে-কুইজার-১-এর মালিকপক্ষ গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবর আবেদন করে। এসব জাহাজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে নীতিগত সম্মতি চেয়ে চিঠি পাঠানোও সম্ভব হয়নি। ফলে সাতটি জাহাজের কোনোটিরই রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

চিঠিতে জাহাজমালিকদের হালনাগাদ সার্ভে সার্টিফিকেট, রুট পারমিট ফি জমার প্রমাণ, কনজারভেন্সি ছাড়পত্র, ভয়েজ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম বিভাগ ও কক্সবাজার নদীবন্দরের উপপরিচালক নয়ন শীল জানিয়েছেন, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক পরিবহনের জন্য জাহাজগুলোকে বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট নিতে হয়।

তিনি বলেন, একটি জাহাজের মালিক আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করেই রুট পারমিট দিতে হয়। গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এবার যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জাহাজের ফিটনেসসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয় যাচাই করে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। কোনো জাহাজের সার্ভে সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় নৌ-সংক্রান্ত কাগজপত্র না থাকলে রুট পারমিট দেওয়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন সমুদ্রে চলাচল না করায় জাহাজগুলোর নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এসব সনদ আরও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবে, তাদের রুট পারমিটের ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়। এতে নভেম্বরে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার নিয়ম এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

পরে ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন বলেও জানানো হয়। তবে ভ্রমণের সুযোগ চালু হলেও জাহাজের রুট পারমিট না থাকায় পর্যটক পরিবহন শুরু করা যাচ্ছে না।

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত জমা দেওয়ার চেষ্টা করছে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। আগামী শুক্রবারের মধ্যে পর্যটকবাহী জাহাজ নিয়ে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার জন্য ট্যুর অপারেটরদের মধ্যে একধরনের অলিখিত প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।