২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০০

শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের অবস্থান কত

ঋণগ্রস্ত দেশ  © টিডিসি সম্পাদিত ছবি

বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সরকারি ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৪০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণের পরিমাণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটির সরকারি ঋণ ২২ দশমিক ৫০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের ঋণ ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১৯৯ শতাংশ।

তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশটির জিডিপির তুলনায় ঋণের পরিমাণ ১০২ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা ফ্রান্সের ঋণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১১৮ শতাংশ।

এ ছাড়া ইতালির সরকারি ঋণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১৩৮ শতাংশ। জার্মানির ঋণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ভারত ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারি ঋণ নিয়ে তালিকার সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। দেশটির ঋণ জিডিপির ৮৩ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ছিল ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। গত দেড় দশকে তা বেড়ে প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে। তবে জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশের ঋণের অনুপাত উন্নত অর্থনীতির অনেক দেশের চেয়ে কম।

এদিকে, ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় সংকোচনের চাপে পড়ছে। ফ্রান্সে ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের সুদের হার প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশটির সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের শেষে বিশ্বে সরকার, পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ঋণের পরিমাণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এতে জনসেবামূলক খাতে বরাদ্দ কমার পাশাপাশি কর বৃদ্ধি ও অন্যান্য ব্যয় কমানোর চাপও বাড়ছে।