০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০

বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, পাবেন যারা

বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

জরুরি খরচ মেটাতে ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে এই সুবিধায় যোগ্য গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে ঋণের টাকা হাতে পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে সরাসরি বিল বা সেবার মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এই সুবিধা চালু হতে পারে। সাময়িক নগদ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে আরও অভ্যস্ত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এই ঋণের অর্থ শুধু অনুমোদিত ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেমেন্ট পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল দেওয়া যাবে এই ঋণের টাকায়। এ ছাড়া মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ, ভ্রমণ ব্যয়, কর ও সরকারি সেবার ফি পরিশোধেও এটি ব্যবহার করা যাবে। ঋণ বা আমানতের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধের সুযোগও থাকবে।

তবে ঋণের টাকা নগদে তোলা যাবে না। গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওয়ালেটেও তা জমা করা যাবে না। অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতার কাছে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

গ্রাহকেরা ঋণ পরিশোধের জন্য ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের সময় পাবেন। এ ঋণে সুদ নেওয়া হবে না। তবে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি দিতে হবে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা সেবা ফি নেওয়া যাবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত কোনো সুদ দিতে হবে না। আগাম পরিশোধের ক্ষেত্রেও বাড়তি কোনো ফি নেওয়া যাবে না। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। সেই জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ঋণের জন্য প্রযোজ্য দৈনিক সেবা ফির বেশি হতে পারবে না।

প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো অন্তত ছয় মাস এই সুবিধা পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করবে। পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে সুবিধাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই ঋণ ব্যবস্থায় গ্রাহক নিবন্ধন থেকে শুরু করে ঋণ অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ এবং ঋণ ফেরত নেওয়া—সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি), দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাই কিংবা একাধিক স্তরের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মতো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এই সুবিধা পরিচালনায় ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে।

তবে পুরো কার্যক্রমই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নিয়মের আওতায় থাকবে। ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং তথ্যনিরাপত্তা–সংক্রান্ত নীতিমালা মেনে এই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে প্রয়োজনের সময় গ্রাহকেরা ছোট অঙ্কের স্বল্পমেয়াদি ঋণ সহজে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে বাড়বে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার। তবে নগদে টাকা তোলার সুযোগ না থাকায় এই ঋণ কেবল নির্ধারিত প্রয়োজনীয় ডিজিটাল পেমেন্টেই ব্যবহার করতে হবে।