০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪০

‘পার্টস’ ঘোষণায় এলো ১২ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি

জব্দ করা বিলাসবহুল গাড়ি  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ব্যবহৃত স্পেয়ার পার্টস’ বা গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণার আড়ালে কায়দা করে আনা তিনটি বিলাসবহুল রাজকীয় গাড়ি ও বিপুল পরিমাণ পার্টসের বিশাল একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) অভিযান চালিয়ে চালানটি জব্দ করা হয়। 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাপান থেকে একটি কনটেইনারে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আনা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ এবং বিএমডব্লিউ এম৫ মডেলের তিনটি উচ্চমূল্যের গাড়ি। জব্দ করা পার্টস ও চালানের সম্মিলিত বাজারমূল্য আনুমানিক ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, জাপান থেকে চালানটি বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাস পার হয়ে গেলেও কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। কোনো শুল্ক-কর পরিশোধ না করে কৌশল হিসেবে সরকারি নিলাম প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে চালানটি খালাসের অপচেষ্টা চলছিল। কিন্তু গোপন সংবাদ থাকায় কাস্টমস গোয়েন্দারা কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে সেই প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন।

কনটেইনারটি খোলার পর ভেতরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা যন্ত্রাংশগুলো সুকৌশলে রাখা সম্পূর্ণ গাড়ির বৈশিষ্ট্য বা ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বহন করে কি না, তা বিস্তারিত পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত অন্যান্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে হোন্ডা বি১৮সি টাইপ আর ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হাফ-কাট এবং নতুন টায়ারসহ বিপুল পরিমাণ খুচরা পার্টস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রণয় চাকমা বলেন, ‘পণ্যগুলো জব্দ করা হয়েছে। আমদানির প্রকৃত মূল্য, ব্যাংকিং পেমেন্ট, বাণিজ্যিক দলিল ও লেনদেনের প্রকৃতি যাচাই করে সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এই চালানের সার্বিক তথ্য ও জব্দকৃত যন্ত্রাংশ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন।