সুফল পাবেন ৩৩ লাখ, সরকারের যাবে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রায় ৩৩ লাখ সুবিধাভোগী এর আওতায় আসবেন। এতে সরকারের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন। এটি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পাশাপাশি বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি বলেন, বেসরকারি খাতে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর ৫ শতাংশ বা ৭ শতাংশ করে বেতন বাড়ায়। মন্ত্রিসভায় থাকা কয়েকজন নিয়োগকর্তাও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন পে-স্কেল মূলত যারা নির্ধারিত বেতনস্কেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন আগের তুলনায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে। তবে পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অন্যতম কারণ একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।
স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৫ বছরে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মোট ৮ বার পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল, সবশেষটি ছিল ১১ বছর আগে ২০১৫ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট হারে (বর্তমানে পাঁচ শতাংশ) বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি হলেও, নতুন করে আর আনুষ্ঠানিক বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসেনি। নিয়মিত বেতন বাড়লেও মূলত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য নতুন পে-স্কেলের প্রয়োজন হয়।