পে স্কেল চূড়ান্ত আজই!
শুরু হয়েছে মন্ত্রীপরিষদ বৈঠক; যেখানে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে নতুন পে-স্কেল। ইতোমধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। আজকের বৈঠকেই নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কিছুটা বিলম্ব হয়।
বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, বিভিন্ন গ্রেডের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচিব দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে আজকেই পে-স্কেল চূড়ান্ত হবে। তবে এর গেজেট প্রকাশে একটু সময় লাগতে পারে।’ তিনি আরও জানান, আজকের বৈঠকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুদিন ধরে নবম পে-স্কেল নিয়ে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত। এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকটি সংসদে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। অনুমোদন পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল। কমিশনের হিসাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলে তখনই হিসাব দেওয়া হয়।’
বাস্তবায়নে ৪ ধাপ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের মূল বেতন ও ভাতাগুলো চার ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপ আগামী বছরের জানুয়ারি (বছরের শুরু) থেকে আরও ৩৫ শতাংশ কার্যকর করা হবে।
এছাড়াও তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে এবং এরপর ওই একই অর্থবছরের জানুয়ারিতে ভাতাগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কৌশল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার একদিকে যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দিচ্ছে না।
তথ্যমতে, অষ্টম পে কমিশন গঠনের প্রায় এক দশক পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। বাস্তবায়ন তদারকির জন্য ২১ এপ্রিল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে যার প্রধান করা হয়। অর্থমন্ত্রী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা করেছিলেন, ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে।