২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১

শিক্ষা-কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে বিশ্বের ২০ শতাংশ তরুণ

তরুণ প্রজন্ম   © সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে তরুণদের জন্য চাকরির বাজার ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন প্রজন্মের জন্য স্থায়ী, নিরাপদ ও শোভন কাজের সুযোগও প্রত্যাশার তুলনায় কম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষতার ঘাটতি, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রতি পাঁচজন তরুণের একজন শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

আইএলওর ‘তরুণদের বৈশ্বিক কর্মসংস্থান প্রবণতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তরুণদের কর্মসংস্থানের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে এবং শোভন কর্মসংস্থানে প্রবেশের পথও আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

আইএলওর হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বে ২০ শতাংশ তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে আরও প্রায় ৪০ লাখ তরুণ এই অবস্থায় পড়েছে। ২০২৭ সালে এই হার বেড়ে ২০ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নারীদের পরিস্থিতি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে না থাকা তরুণ নারীর হার পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় এই বৈষম্য আরও তীব্র। এ অঞ্চলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণ নারীর হার পুরুষদের তুলনায় প্রায় চার গুণ।

আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান শ্রমবাজারে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নতুন সুযোগ তৈরি করলেও তা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করছে না। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে।

ফলে তরুণদের জন্য শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়। কর্মবাজারে টিকে থাকতে ডিজিটাল দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।