৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করল অ্যাপল
মার্কিন প্রযুক্তিনির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের বাজারমূল্য ৫ ট্রিলিয়ন (৫ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার পর বিশ্বের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল অ্যাপল। খবর রয়টার্সের
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শেয়ারবাজার খোলার পর লেনদেনের একপর্যায়ে অ্যাপলের শেয়ারদর সর্বোচ্চ ৩৪২.৮৯ ডলারে পৌঁছায়, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্যকে ৫.০৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শেয়ার দর কিছুটা কমে ৩৩৭.৭ ডলারে অবস্থান করলে বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৪.৯৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনভিডিয়াকে পেছনে ফেলে আবারও শীর্ষ স্থান দখল করেছে অ্যাপল। ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়া শীর্ষ স্থানে ছিল এবং তারাই প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘর স্পর্শ করার গৌরব অর্জন করেছিল।
চলতি বছরে অ্যাপলের শেয়ারের দর প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন মধ্যে সর্বোচ্চ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো তৈরিতে বড় টেক জায়ান্টদের মতো অন্ধের মতো বিপুল অর্থ ব্যয় না করে গ্রাহক অভিজ্ঞতা এবং বিদ্যমান পণ্য চাহিদার ওপর জোর দেওয়ার নীতি অ্যাপলের শেয়ারকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করেছে।
ইন-হাউস এআই মডেল তৈরিতে সরাসরি কোটি কোটি ডলার ঢালার বদলে গুগল প্রযুক্তির সহায়তায় রিমডেল করা সিরি চালুর সিদ্ধান্ত কোম্পানিটিকে অতিরিক্ত ডেটা-সেন্টার খরচের বোঝা থেকে মুক্ত রেখেছে।
পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহকদের জন্য ক্লার্নার মাধ্যমে চালু করা ডিভাইস লিজিং প্রোগ্রাম বাজার থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। এর আওতায় মাসিক ১৭.৯৯ ডলারে আইফোন, ১১.৯৯ ডলারে অ্যাপল ওয়াচ বা আইপ্যাড এবং ২৪.৯৯ ডলারে ম্যাক কম্পিউটার লিজে নেওয়ার সুযোগ চালু করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন মুখিয়ে আছেন চলতি সপ্তাহের শেষভাগে প্রকাশিত হতে যাওয়া অ্যাপলের তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনের দিকে, যেখানে কোম্পানিটির রাজস্ব ১৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।