২৪ জুলাই ২০২৬, ১৭:৫৯

স্বর্ণের দামে বড় পতন 

প্রতীকী ছবি   © সংগৃহীত

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আবারও বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন ঘটেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা স্বর্ণবাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭ দশমিক ২৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগের কার্যদিবসেও স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল। গত বুধবার স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছালেও বর্তমানে তা প্রতি আউন্সে ১৩০ ডলারেরও বেশি নিচে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে আগস্টে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯ দশমিক ৮০ ডলারে স্থির হয়। অবশ্য সার্বিকভাবে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের বাজার এখনো প্রায় ০.৫ শতাংশ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান জানান, নিকট ভবিষ্যতে স্বর্ণের বাজারে এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। তার মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৩ হাজার ৯৮০ থেকে ৪ হাজার ১৭০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে এবং দাম ৪ হাজার ডলারের কাছাকাছি এলেই বড় ধরনের ক্রেতারা বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠছেন।

বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুমকি দেন। এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একদিনেই প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার অতিক্রম করে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের ধারণা, তেলের এই চড়া মূল্য সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হতে পারে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সুদের হার উচ্চ থাকলে সুদবিহীন এই সম্পদের আকর্ষণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অনেকটাই কমে যায়।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৭৬ ডলারে উঠেছে। তবে প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৮৩ দশমিক ৯১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৩৬ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।