২০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫

বিশ্ববাজারে ফের স্বর্ণের দামে বড় পতন, দেশে আজ ভরি কত?

সোনার দাম  © সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতনের ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারেও কমেছে স্বর্ণের দাম। শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের উচ্চ সুদের হার নীতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম নিম্নমুখী হওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯২ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়ায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থান স্বর্ণবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস রয়টার্সকে বলেন, স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বহাল থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়বে, যদিও এটি ডলারের জন্য ইতিবাচক।

গত ১৭ জুন প্রকাশিত ফেডের সর্বশেষ পূর্বাভাসে দেখা গেছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ৯ জন মনে করেন চলতি বছরে নীতিগত সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত

এদিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের জন্য স্বর্ণের মূল্য পূর্বাভাস কমিয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০০ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ৫ হাজার ৪০০ ডলারের পূর্বাভাস দিয়েছিল। যদিও দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজার নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি, তবে স্বল্পমেয়াদে তারা সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে।

শুধু স্বর্ণ নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রুপার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ২৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭৫ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শুক্রবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ জুন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।