১৩ জুন ২০২৬, ১৯:০৭

৫০০ প্রতিষ্ঠান তৈরি, ৪ হাজার ভবন, নতুন এমপিও ও শিক্ষা ঋণসহ ১০ ক্যাটাগরিতে মহাপরিকল্পনা শিক্ষায়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়  © ফাইল ফটো

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষাখাতের জন্য একটি বিস্তৃত ও বহুমুখী উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, উপবৃত্তি ও উচ্চশিক্ষা সহায়তাসহ অন্তত ১০টি খাতে কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আগামী অর্থবছরে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। 

শনিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তক সহজলভ্য করতে সেগুলো ওয়েবসাইটে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেধাবৃত্তিসহ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি প্রদান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী এবং মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অনুদান প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণাগার সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অনগ্রসর এলাকাগুলোতে ৫০০টি নতুন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সারা দেশে ৪ হাজার নতুন শিক্ষা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২১৮টি একাডেমিক ভবন, ২১টি প্রশাসনিক ভবন, ৩৮টি মাল্টিপারপাস ভবন এবং ৬০টি আবাসিক হল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া ১ হাজার ৪৮৫টি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ এবং ১ হাজার ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হবে।

শিক্ষক সংকট নিরসনে বিভিন্ন পদে নিয়োগ, নতুন এমপিওভুক্তি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও বিশেষ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, ৫০০টি ভাষা ল্যাব চালু এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম, ৫টি ভাষা শিক্ষা মডিউল ও রিসোর্স পুল তৈরি করা হবে।

লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কার্যক্রম–এর আওতায় মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক কারিকুলাম প্রণয়ন, ৫০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ এবং ৮ হাজার লাইব্রেরি উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় পর্যায়ে ২৬ হাজার এবং বিদেশে ১০০ জন শিক্ষককে জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়ন সুযোগ এবং অনগ্রসর অঞ্চলের ১.৫ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে।

উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং সায়েন্স পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ঋণ চালুর নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে গাইডলাইন তৈরি করা হবে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।