পে-স্কেল বাস্তবায়নে দুই বিষয়ের কথা জানালেন আজিজী
পে-স্কেল বাস্তবায়নে দুই বিষয়ের কথা জানিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেছেন, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আমরা জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। কর্মচারী সংগঠনের কর্মসূচিগুলোতেও আমরা একাত্মতা প্রকাশ করেছিলাম। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মহাসমাবেশটিতে আমরা আমরা ছিলাম, ওই কর্মসূচিতে আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সামাজিক মাধ্যমে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।
প্রিন্সিপাল মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। সেজন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট এবং মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা প্রায় ১১ বছর ধরে পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত ছিলাম। এই সময়ে আমরা হয়তো আরও দুইটা পে-স্কেল পাওয়ার কথা ছিল। তারপরও আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
পে-স্কেলের ব্যাপারে দুইটি বিষয় জানিয়ে প্রিন্সিপাল মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, আমাদের মূল বেতনর শতভাগ বাস্তবায়ন করা এবং এই বাজেট থেকে শতভাগ মূল বেতনটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট ও ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এই আবেদন থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের বিষয়টি নিয়ে অনেক সময় ষড়যন্ত্র হতে দেখা যায়, তাই সবার সঙ্গেই যেন আমাদের প্রজ্ঞাপনটা জারি করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে যত পে-স্কেল হয়েছে সকল পে-স্কেলেই আমাদের এমপিভুক্ত শিক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমাদের যেহেতু পে-স্কেল দেওয়া হচ্ছে, তাই এটি নিয়ে কোনো সংশয় যেন না হয়। শিক্ষকদের মধ্যে যাতে হতাশা তৈরি না হয়। এই আমাদের ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী পরিবারের প্রায় ৫০ লাখ সদস্যের।
সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বরাদ্দ বেশি দেয়া হয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা। আলহামদুলিল্লাহ এটা একটা ভালো দিক। যদিও আমাদের দাবি ছিল জিডিপির ৫ শতাংশ যাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নানা রকমের ট্রেনিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে যদি অধিকাংশ টাকা ব্যয় করা হয়, তাহলে সত্যিকারের অর্থে আমাদের শিক্ষকদের জীবন মানের খুব একটা হবে না এবং শিক্ষকরা কিন্তু বঞ্চিতই থাকবে। শিক্ষার গুণগত নিশ্চিতের পূর্বে, তাদের সম্মান সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোচ্চ বরাদ্দ থেকে শিক্ষকদের মান উন্নয়নে যেন বড় একটা অংশ ব্যয় করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
শিক্ষকদের উৎসব ভাতার বিষয়ে প্রিন্সিপাল মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, আপনারা জানেন শিক্ষামন্ত্রী ১০ শতাংশ উৎসব ভাতা বৃদ্ধির জন্য একটা ডিউ লেটার দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন তিনি বলেছেন যে, পর্যায়ক্রমে উৎসব ভাতাটাকে শতভাগে নিয়ে যাওয়া হবে। এই বাজেট থেকে যেন শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়া হয় সে আহ্বান থাকব।