১২ জুন ২০২৬, ১১:১৭

বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ ৫৫ হাজার কোটি টাকা, সুবিধা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-পেনশনভোগীরা

জাতীয় বাজেট  © টিডিসি সম্পাদিত

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের জনসেবা খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হচ্ছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের ৭২ হাজার ২৪ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৯৬ শতাংশ বেশি। পরে সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। 

সেই হিসাবে নতুন বরাদ্দ সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত বরাদ্দের মধ্যে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য থেকে এসব তথ্য জানা যায়। 

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা গত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, আগামী মাস থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

বর্তমানে কার্যকর অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবং জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য পৃথক একটি ধাপ (স্টেপ) তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে অর্থ বিভাগের। এটি পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।

আরও পড়ুন: নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়বে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ, অনুপাত ১:৯

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতনের অনুপাত রাখা হয়েছে প্রায় ১:৮, যেখানে বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.০৭৬। এর আগের বেতন কাঠামোগুলোতেও প্রায় একই ধরনের অনুপাত বজায় ছিল।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সব গ্রেডেই মূল বেতন দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারীর বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হয়ে মোট প্রাপ্য দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

এদিকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। কমিশনের হিসাবে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

বাজেট সংক্ষিপ্তসারের ‘বিবরণী-২ খ’ অনুযায়ী, পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ আগামী অর্থবছরের জন্য মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ‘বিবরণী-৪’-এর হিসাব অনুযায়ী, পরিচালন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যেখানে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা।

বাজেটের সম্পদ ব্যবহারের অংশে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। ফলে এই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের মধ্যে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুরো বরাদ্দ শুধু বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতেই ব্যয় হবে না। এর মধ্যে নতুন নিয়োগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশনভোগীদের অতিরিক্ত সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।