১৯ লাখ মা ও শিশুকে মাসিক ৮৫০ টাকা ভাতা প্রদানের ঘোষণা
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাজেট বক্তব্যে তিনি দারিদ্র্য নিরসন, বৈষম্য হ্রাস এবং জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সকল নাগরিককে সুরক্ষার আওতায় এনে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা, যাতে একটি মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।
প্রস্তাবিত বাজেটে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’কে সিগনেচার প্রোগ্রাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় পরিবারের প্রধান নারী সদস্য মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে এবং এ খাতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮.৯৫ লাখ মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক ও দরিদ্র মা ও শিশুদের সামাজিক সুরক্ষা আরও জোরদার করা হবে।
বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের জন্য ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়ার ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হবে এবং মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হবে।
আরও পড়ুন : মৎস্যজীবী ও কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘জাল যার জলা তার’ নীতি গ্রহণ
ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের এককালীন সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হবে। বেসরকারি কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ফান্ডের আওতায় অবসরকালীন অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা বাড়িয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারদের মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের নির্ধারিত হারে ভাতা অব্যাহত থাকবে বলেও বাজেটে জানানো হয়।
সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।