মৎস্যজীবী ও কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘জাল যার জলা তার’ নীতি গ্রহণ
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে দেশের মাছ উৎপাদন ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে মাছ রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
বাজেট বক্তব্যে বলা হয়, প্রকৃত মৎস্যজীবী ও কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জাল যার জলা তার’ নীতির ভিত্তিতে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওর স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত রাখার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া ১৫ লাখ জেলে পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। মৎস্য চাষিদের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশে প্রথমবারের মতো মৎস্য বীমা স্কিম চালু এবং বাণিজ্যিক মৎস্য খামারের যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়।
হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খাতের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য (ফিড) উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, বীমা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খামারিদের ইতোমধ্যে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আরও পড়ুন : পে স্কেলের ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী
বাজেট প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ০.৬৬ শতাংশ।