১১ জুন ২০২৬, ১৫:০৩

বৃহস্পতিবার কেন ঘোষণা করা হয় বাজেট, জেনে নিন চার কারণ

জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা হবে আজ  © টিডিসি সম্পাদিত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ঘোষণা হতে যাওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই মেগা বাজেট নিয়ে চলছে নানা ধরনের আলোচনা। এরইমধ্যে আলোচনায় এসেছে আরও একটি বিষয়। প্রতিবারই কেন বৃহস্পতিবারই ঘোষণা হয় এই বাজেট।

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে চারটি কারণ। জানা গেছে, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় সব বাজেট বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করা হয়েছে। শুধু অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৪তম বাজেটটি উত্থাপন করা হয়েছিল সোমবার। 

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবারই এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নেওয়ার পেছনে চার কারণ হলো-

১. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা
জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনের পেছনে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। এ কারণে বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপন করলে পরের দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার তারা সাপ্তাহিক ছুটি পান। এতে তারা কিছুটা হলেও মানসিক ও শারীরিক ধকল কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পান।

২. এমপিদের সময় প্রাপ্তি
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পরের সপ্তাহে সম্পূরক বাজেট পাশ করতে হয়। এর ওপর দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক চলে। এমপিরা যাতে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় ভালোভাবে পড়তে পারেন, সে জন্য তাদের সময় প্রয়োজন হয়। বৃহস্পতিবার বাজেট দিলে শুক্র ও শনিবার সময় পান তারা। এতে সংসদীয় বিতর্কে ভালোভাবো অংশ নিতে সুবিধা পান তারা।

আরও পড়ুন: নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ

৩. শুল্ক ফাঁকি ও পণ্য মজুত রোধ
বাজেটে পণ্যের দাম বৃদ্ধি বা কমা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র আগ্রহ থাকে। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার পরপরই শুল্ক স্টেশন, ব্যাংক ও পাইকারি বাজার বন্ধ হয়ে যায়। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য কিনে অবৈধভাবে মজুত  বা শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পান না। দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় ট্যাক্স বা ভ্যাট কার্যকর করার আইনি প্রক্রিয়াগুলো বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখে।

৪. আইনি জটিলতা এড়ানো
নতুন কর কাঠামো বা শুল্ক আরোপ নিয়ে বাজেটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে অনেকেই আইনি পদক্ষেপ বা রিট করতে পারেন। তবে বৃহস্পতিবার বাজেট পেশের পরই আদালত ও সরকারি অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে না। দুই দিনের বিরতিতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা আইনগুলো ঠান্ডা মাথায় মূল্যায়ন করতে পারেন।