১১ জুন ২০২৬, ১৫:১৫

বাজেটে ১০ অগ্রাধিকারের কথা জানাল সরকার

জাতীয় বাজেট  © টিডিসি সম্পাদিত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার ক্ষেত্র তুলে ধরেছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১০টি অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে সরকার ‘সবার জন্য উন্নয়ন’-এর কথা উল্লেখ করেছে। এ ক্ষেত্রে সর্বস্তরের মানুষ, সব শ্রেণি-পেশা, সব খাত এবং দেশের সব অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ। সরকারের লক্ষ্য বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে সর্বজনীন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় অগ্রাধিকার হলো সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে সব বয়স ও সব শ্রেণির নাগরিককে সুরক্ষার আওতায় এনে একটি কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

চতুর্থ অগ্রাধিকার হিসেবে বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

পঞ্চম অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে বিনিয়ন্ত্রণকরণ বা ডিরেগুলেশন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। সরকারি কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় ধাপ ও বিলম্ব কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

ষষ্ঠ অগ্রাধিকার হিসেবে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা মোবাইলে সহজে দেখবেন যেভাবে

সপ্তম অগ্রাধিকার হিসেবে জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

অষ্টম অগ্রাধিকার হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

নবম অগ্রাধিকার হিসেবে প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জনগণের অংশগ্রহণে বনায়নকে সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করা, নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

দশম ও শেষ অগ্রাধিকার হিসেবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করে তোলা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।