২৬ মে ২০২৬, ০৭:৫৭

ইরানে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে কমল সোনা ও রূপার দাম, কমবে দেশেও!

সোনার গহনা   © সংগৃহীত

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমেছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ ও দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কাও বেড়েছে। এর প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৬ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৪ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে এসেছে। তবে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৪৫ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দোহায় বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান দ্রুত কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়।

আলোচনার মধ্যেই সোমবার দক্ষিণ ইরানে মাইন বসানোর চেষ্টা করা নৌকা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনাকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। নতুন এই উত্তেজনার জেরে মঙ্গলবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ে। ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার অনুৎপাদনশীল এই ধাতুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজার এখন ধারণা করছে চলতি বছরের শেষ দিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে। এ সম্ভাবনা প্রায় ৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

এদিকে ঘানার সরকার গোল্ড ফিল্ডসের টার্কওয়া খনির ইজারা নবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নবায়নের আগে কোম্পানিটির পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে।

শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৭ দশমিক ৪২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৫৮ দশমিক ১৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৮৯ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে এই দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সাধারণত দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে যে কোনো সময় দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে।

এর আগে গত ২৫ মে সর্বশেষ দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম সমন্বয় করে বাজুস। সেদিন প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা এবং রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়ানো হয়।

বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।