২০ মে ২০২৬, ১১:০৫

সরকারি চাকরিজীবীদের ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পে স্কেলে সমন্বয় হবে যেভাবে

নবম জাতীয় পে স্কেল  © সংগৃহীত

আগামী অর্থবছরের শুরুতে আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ( ২১ মে) আবার বৈঠক ডেকেছে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে গঠিত কমিটি। এ বৈঠক থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকুরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ চূড়ান্ত করেছে সরকার। এর ফলে আগামী ১ জুলাই থেকে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন পেতে শুরু করবেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নবম পে-কমিশনের মূল সুপারিশগুলো হুবহু কার্যকর করা হচ্ছে না।  

সরকার গঠিত পর্যালোচনা কমিটি মূল সুপারিশে বেশ কিছু কাটছাঁট এনে তিন দফায় এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ পাবেন এবং পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর এর পরের অর্থাৎ ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন কাঠামোর সঙ্গে আনুষঙ্গিক সব ভাতা ও বাড়তি আর্থিক সুবিধাগুলো যুক্ত হবে।

পে-কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকুরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ছাত্রীর বাড়িতে গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ, নেপথ্যে উঠে এলো রোমহর্ষক তথ্য

এদিকে, সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের মূল প্রতিবেদনে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও সচিব কমিটি তা অনেকটাই সীমিত করে এনেছে। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ আমলা ও কর্মকর্তাদের মালি, বাবুর্চি ও গাড়ি সুবিধাসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত ভাতা বড় আকারে বাড়ানোর সুপারিশ রাখা হয়নি, বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বর্তমানের ভাতা কাঠামোই বহাল রাখার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, জাকির খান কমিশন প্রথমে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মোট ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তার কথা জানালেও সংশোধিত প্রতিবেদনে নানা কাটছাঁটের পর তা কমিয়ে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

সর্বশেষ সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকুরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশের বেশি এবং উচ্চ স্তরের কর্মকর্তাদের বেতন ১০৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া বৈশাখী ভাতা বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা, মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় উন্নীত করা এবং কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে বিশেষ মাসিক ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের জন্যও ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল চালুর এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকুরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগী বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, যা ধাপে ধাপে কার্যকর হলেও দেশের বেতন কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।