‘নতুন পে কমিশন গঠনের দাবি’, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
নতুন পে স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে বর্তমান সরকারের নিজস্ব কমিশন গঠন করা প্রয়োজন বলে বক্তব্য দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার এ বক্তব্যের পর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সরকারি কর্মচারীরা যখন নতুন পে-স্কেলের আশায় বুক বেঁধে আছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পে কমিশনের রিপোর্টকে সরাসরি গ্রহণ না করার আহ্বান বাস্তবতার সাথে সম্পূর্ণ বেমানান এবং কর্মচারীদের ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি অসম্মানজনক।
এতে আরও বলা হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়ন ঝুলে থাকার ফলে কর্মচারীরা যে অর্থনৈতিক চাপে দিন কাটাচ্ছে, সে বিষয়টি উপেক্ষা করে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—পে-স্কেল কোনো দয়া নয়, এটি সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নে নতুন করে বিলম্ব বা জটিলতা সৃষ্টি করার যেকোনো প্রচেষ্টা কর্মচারী সমাজ মেনে নেবে না।
দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অতএব, আমরা সংশ্লিষ্ট সকল মহলের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি— পে-স্কেল বাস্তবায়নে আর কোনো কালক্ষেপণ নয়, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা আমরা বরদাস্ত করবো না।
এর আগে আজ সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কার্যালয়ে ‘বাজেট ঘিরে নাগরিক ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, বিগত সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে পে স্কেল সংক্রান্ত যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে এক ধরনের ‘প্রলম্বিত দায়’ তৈরি হয়েছে।
নতুন সরকারের ওই উদ্যোগটি নিজস্বভাবে শুরু করা উচিত বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেছেন, ‘এই সরকারের নিজের মতো কমিশন গঠন করে এটাকে বিবেচনা করা উচিত। যেখানে আগের সরকারের পে কমিশনের রিপোর্টটি একটা উপাদান হিসাবে বিবেচনা করতে পারে। প্রশ্মহীনভাবে এটাকে বিবেচনা করার সুযোগ উনাদের নেই।’