০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫

প্রতি আসনে হবে দুটি করে মডেল স্কুল, নিয়োগ পাচ্ছেন ২৭ হাজার শিক্ষক

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি সম্পাদিত

দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে একটি বালক ও একটি বালিকা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মোট ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে ৬৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের পাশাপাশি আবাসন, খেলাধুলা, সাঁতার, সাংস্কৃতিক চর্চা, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বিকাশের সুযোগ থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলো চালু হলে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষক।

সম্প্রতি প্রকল্পটির প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তবে বিপুল ব্যয়ের এ প্রকল্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২০ হাজার ৫২০ কোটি টাকা বা ৩০ শতাংশ এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৪৭ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা বা ৭০ শতাংশ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের বিদেশি অর্থায়নের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), কোরিয়ার ইডিসিএফ ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের নাম রয়েছে। তবে এখনো অর্থায়ন নিশ্চিত হয়নি।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে একটি বালক ও একটি বালিকা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ করা হবে। সে হিসাবে ৩০০টি বালক ও ৩০০টি বালিকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৬০০টি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আনুমানিক তিন একর জমির প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় এক হাজার ৮০০ একর জমি প্রয়োজন হবে। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে জমির প্রাপ্যতা, স্থান নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করার কথা রয়েছে।

তবে সংসদীয় আসনভিত্তিক সমানসংখ্যক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কোনো এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘাটতি, জনসংখ্যা, শিক্ষার্থীসংখ্যা ও স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে স্থান নির্বাচন কীভাবে করা হবে, তা প্রস্তাবে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

প্রতিটি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা থাকবে। একটি প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাবে। প্রতি শ্রেণিতে তিন থেকে চারটি শাখা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শাখায় শিক্ষার্থী থাকবে ৩৮ থেকে ৪০ জন। সে হিসাবে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানে মোট প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন, খেলাধুলা, সাঁতার, সাংস্কৃতিক চর্চা, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বিকাশের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক ৪৫ জন শিক্ষক প্রয়োজন হবে। সে হিসাবে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানে মোট প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন পড়বে। প্রস্তাবিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অনুপাত হবে প্রায় ২২:১। শিক্ষক ছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরীক্ষাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট জনবল, গ্রন্থাগারিক, নার্স, পুষ্টি ও খাবার ব্যবস্থাপনার কর্মী, হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক এবং নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজন হবে।