০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২২:১৭

পদোন্নতির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ৩৮তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের স্মারকলিপি

স্মারকলিপির কপি তুলে দেন মাউশি ডিজি ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকেও  © সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজনিত জটিলতা ও পেশাগত বৈষম্য দূর করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায়ে কর্মরত শিক্ষক কর্মকর্তারা।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিযোগ্য সকলের পদোন্নতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মজীবনের স্থবিরতা নিরসনে তারা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার দেশের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টি না হওয়া এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে এ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা বেশি।

এতে আরও বলা হয়, মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এই সংকট নিরসনে স্মারকলিপিতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা, নিয়মিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা আয়োজন করা, শিক্ষা ক্যাডারে প্রয়োজনীয় নতুন পদ সৃষ্টি এবং সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতিযোগ্য সকল কর্মকর্তাকে পদোন্নতির আওতায় আনা।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা কেবল ব্যক্তিগত বা পেশাগত দাবি নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের স্বার্থেও অত্যন্ত জরুরি।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান শেষে শিক্ষক-কর্মকর্তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এ সময় মহাপরিচালক ও বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল শিক্ষকদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য উপর মহলে পৌঁছে দেওয়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।