মাউশি অধিদপ্তরকে জড়িয়ে প্রকাশিত অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদ
সম্প্রতি ‘শিক্ষা সংবাদ ডট কম’ নামক অনলাইন পত্রিকায় ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ-বাণিজ্য ও এমপিওভুক্তিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগসংবলিত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বিভিন্ন ব্যক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এমন কিছু বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অধিদপ্তরের সংরক্ষিত নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রকাশিত সংবাদে গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও সেসব অভিযোগের সমর্থনে নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বরং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার, তদন্তের ফলাফল এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা না করে সেগুলোকে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এমতাবস্থায়, প্রকাশিত সংবাদের অভিযোগগুলোর বিপরীতে নথিভিত্তিক প্রকৃত তথ্য ও অবস্থান নিম্নে তুলে ধরা হলো।
নরসিংদীর মাধবদী সতীশ ইনস্টিটিউশনে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ
প্রকাশিত সংবাদে উক্ত প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের বিষয়ে অনিয়ম, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, জনাব মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক ২১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে অনুমোদিত হয়। নিয়োগপত্র প্রদান ও দায়িত্ব অর্পণে বিলম্ব এবং ৮ মার্চ ২০২৪ তারিখে ম্যানেজিং কমিটির স্থগিতাদেশের কারণে সৃষ্ট জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে নিয়োগের বিষয়ে যথাযথতা প্রতীয়মান হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর আওতাভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়োগের পূর্ববর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা সমীচীন নয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগের প্রশাসনিক ইতিহাস ও তদন্তের ফলাফল বিবেচনা না করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উত্থাপন করা ভিত্তিহীন। অধিদপ্তরের কাছে থাকা নথিতে উল্লিখিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ নেই।
নওগাঁর মিসিরা শহীদ জিয়া আদর্শ কারিগরি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক এমপিওভুক্তি
সহকারী শিক্ষক সীমা রানী দাসের নিয়োগের তারিখ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখের পত্রে দাখিলকৃত শিক্ষক হাজিরা বহির অনুলিপিতে তাঁকে ১ আগস্ট ২০১৫ তারিখ থেকে ধারাবাহিকভাবে কর্মরত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পদে অন্য কেউ কর্মরত নেই বলেও জানানো হয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিধি অনুসারে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের অনলাইন প্রক্রিয়ায় এমপিওভুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রকাশিত সংবাদে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অধিদপ্তরের নথিতে প্রতিফলিত নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদন ও দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাইয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
নিয়োগকালীন বিএড ডিগ্রিবিহীন ১২১ জন সহকারী প্রধান শিক্ষকের এমপিওভুক্তি
প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে যে, নিয়োগকালীন বিএড ডিগ্রি না থাকা ১২১ জন সহকারী প্রধান শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। মাউশি অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে পৃথক কোনো এমপিওভুক্তির আদেশ জারি করা হয়নি; মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের সময় অর্জিত যোগ্যতা, পরবর্তী সময়ে অর্জিত বিএড ডিগ্রি এবং প্রযোজ্য নীতিমালার আলোকে বিভিন্ন শিক্ষকের বিষয় নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে অর্থের বিনিময়ে সুবিধা প্রদান হিসেবে চিত্রিত করার কোনো ভিত্তি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা আদায়, অর্থ বণ্টন কিংবা টাকা না দিলে এমপিওভুক্তি না করার অভিযোগও অধিদপ্তরের নথিপত্রে সমর্থিত নয়।
কুমিল্লার মুরাদনগরের ছইনউদ্দিন সরকার উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাব মো. আইয়ুব আলীর এমপিওভুক্তি
প্রকাশিত সংবাদে জনাব মো. আইয়ুব আলীর এমপিওভুক্তির জন্য তিন লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২১ মে ২০২৬ তারিখে পরিচালক (মাধ্যমিক)-এর তত্ত্বাবধানে নথি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকায় তাঁর এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। অতএব, এমপিওভুক্তির প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘুষ গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বগুড়ার চাকলমা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ভবেশ চন্দ্র মাহাতোর এমপিওভুক্তি
প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে যে, জনাব ভবেশ চন্দ্র মাহাতো নিয়োগকালীন প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সনদ না থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত হয়েছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ তারিখে যোগদান করেন এবং ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে উপাধি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৩ সালের এমপিও নীতিমালায় সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিষয়ের শিক্ষকের ক্ষেত্রে উপাধি ডিগ্রির বিধান রয়েছে। এ কারণে তাঁর এমপিওভুক্তির বিষয়টি প্রযোজ্য নীতিমালার আলোকে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি
নওগাঁর পার্বতীশৈল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মো. আবুল কাশেমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএড ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন প্রক্রিয়ায় এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। এ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের বলতৈল এলাহী বখশ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) জনাব মো. কামরুল হাসানের এমপিওভুক্তির বিষয়ে একই পদে অন্য একজন শিক্ষক কর্মরত থাকার দাবি ওঠায় বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রশ্ন নেই। ফলে এ ঘটনাকে আর্থিক অনিয়মের নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ আদায়ের অভিযোগ
ময়মনসিংহের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তারাকান্দার বড়ইপাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের আলেয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন, এমপিও কমিটির সিদ্ধান্ত এবং বিধি অনুসারে নথি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। বড়ইপাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষকের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও এমপিও কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের আলেয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবেদন অনলাইনে যাচাই-বাছাই করে বিশেষ এমপিও কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ে পাঁচ শতাধিক এমপিওভুক্তির সুপারিশ বা আদেশের সূত্র ধরে আট থেকে দশ কোটি টাকা আদায়ের যে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে, তার সমর্থনে কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ সংশ্লিষ্ট নথিতে নেই। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সংখ্যা বা আর্থিক সুবিধার পরিমাণ উল্লেখ করলেই ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।
জামালপুরের সারপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাবা শরিফা আক্তারের এমপিওভুক্তি
প্রকাশিত সংবাদে তাঁর নিয়োগে জাল কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে বেতন-ভাতা ছাড়ের দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বিষয়টি তদন্তের পর বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে এমপিওভুক্তি-সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে সংবাদে পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে যাচাই না করে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করা অনুচিত।
কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব রমজান আলীর এমপিওভুক্তি
প্রকাশিত সংবাদে তদন্তের সময় অর্থ গ্রহণ, মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি এবং পরে পুনরায় অর্থের বিনিময়ে এমপিও চালুর অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, জনাব রমজান আলীর এমপিওভুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির পর তাঁর বিষয়ে আরও অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের পদে পুনর্বহাল ও বেতন-ভাতা সংক্রান্ত অভিযোগ
প্রকাশিত সংবাদে রামপুরার একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাবা হাসনেওয়ারা এবং ডেমরার হাজী মায়াজেম আলী আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মো. আফতাব উদ্দিন চৌধুরীর পদে পুনর্বহাল নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, প্রথম ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে পুনর্বহালের ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অভিযোগ ও মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে উভয় পক্ষের আবেদন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে মামলা ও তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটি এখনো তাঁকে পদে পুনর্বহাল করেনি। এখানে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও চলমান প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে; অর্থ গ্রহণের অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই।
সনদসংক্রান্ত অভিযোগে বেতন-ভাতা স্থগিত ও পুনরায় চালু করার বিষয়
প্রকাশিত সংবাদে জাল সনদসংক্রান্ত অভিযোগে বেতন-ভাতা স্থগিত করা শিক্ষক-কর্মচারীদের পুনরায় বেতন-ভাতা চালুর বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের নির্দেশনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সনদ অর্জনের শর্তে ১২৩ জন শিক্ষককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ৪৭ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে পুনরায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। অতএব, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে গৃহীত প্রশাসনিক পদক্ষেপকে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কোনো ভিত্তি নেই।
শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ছাড়ের বিপরীতে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ
প্রকাশিত সংবাদে ৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৭ জন সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার)-এর বকেয়া বেতন-ভাতা ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, আবেদনকারীর সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিষয়টি এমপিও কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয় এবং বকেয়া প্রদানের নির্দেশনা বা সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইভাবে বিভিন্ন শিক্ষকের বকেয়া বেতন-ভাতা সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন এবং এমপিও কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে বিবেচিত হয়েছে। যেসব নথি এখনো প্রক্রিয়াধীন, সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করাও সঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণ কিংবা অর্থ বণ্টনের অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রদর্শকদের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ সংক্রান্ত অভিযোগ
বিগত সরকারের আমলে ২০২০ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের আগস্টের পূর্বে অনুষ্ঠিত প্রদর্শকদের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় ফলাফল প্রকাশ আপাতত বন্ধ আছে। এখানে মাউশির হস্তক্ষেপের অভিযোগ সম্পুর্ন ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে দুর্নীতির অভিযোগে রূপান্তর গ্রহণযোগ্য নয়
উপরোক্ত ঘটনাবলি থেকে স্পষ্ট যে, প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত একাধিক অভিযোগের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি, তদন্ত প্রতিবেদন, এমপিও কমিটির সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। কোনো কোনো বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই বা তদন্ত চলমান থাকলেও সেসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
মাউশি অধিদপ্তর দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনো অভিযোগকে উপেক্ষা করে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে প্রমাণবিহীন অভিযোগ, অনুমাননির্ভর বক্তব্য কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের খণ্ডিত বিবরণ দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা সমর্থনযোগ্য নয়।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, জনস্বার্থে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের অধিকার ও গুরুত্ব আমরা স্বীকার করি। তবে সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা অপরিহার্য। মাউশি অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে এসব বিষয়ে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
অতএব, ‘শিক্ষা সংবাদ ডট কম’-এ প্রকাশিত উল্লিখিত সংবাদে মাউশি অধিদপ্তর ও এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পত্রিকার কর্তৃপক্ষকে সংবাদটির অসংগত ও অসমর্থিত অংশ সংশোধন করে এই প্রতিবাদলিপি যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে পাঠকসমাজ প্রকৃত তথ্য জানতে পারেন এবং জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর হয়।