০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৯

শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে তথ্য দিলেন মাউশি ডিজি

অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল  © ফাইল ছবি

বেসরকারি স্কুল কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস হতে চললেও এখনো ফল প্রকাশ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ দুটোই প্রকাশ করেছেন বদলির অপেক্ষায় কয়েক হাজার শিক্ষক।

শিক্ষকদের হতাশার বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস তুলে ধরেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে। তবে বদলির ফল নিয়ে তিনি ভালো কোনো খবর দিতে পারেননি।

মাউশি মহাপরিচালক জানান, ‘বদলির ফল প্রকাশ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দরকার। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বদলির ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে না।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশি সূত্রগুলো জানিয়েছে,  বদলির জন্য আবেদনকৃত শিক্ষকদের এডিট অপশন চালু, আবেদন বাতিল করতে চাওয়া, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বেশ কিছু কারণ সামনে এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষকদের ঢাকায় বদলি হওয়ার ইচ্ছার বিষয়টি।

বদলির জন্য আবেদনকৃত অনেক শিক্ষক ঢাকায় আসতে চান বলে জানা গেছে। স্পাউজের কর্মস্থল ঢাকায় দেখিয়ে অনেকেই আবেদন করেছেন। অধিকাংশ শিক্ষক ঢাকায় চলে আসলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষক সংকট দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া ডিসেম্বরে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বচানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

সূত্রের তথ্য বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নানা কার্যক্রমের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জড়িত। এই মুহূর্তে তাদের বদলি করা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এজন্য এই মুহূর্তে বদলির ফল প্রকাশ করতে চায় না মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের আবেদন বাতিল বা এডিট অপশন চালুতে বিলম্ব করে বদলির ফল প্রকাশের কার্যক্রম পেছানো হতে পারে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ‘শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশ না করার পেছনে একেক সময় একেক কারণ দেখানো হচ্ছে। এই সমস্যাগুলো দ্রুতই সমাধান করা সম্ভব। তবে কেন করা হচ্ছে না সেটি আসলে বোধগম্য নয়।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘বদলি না হওয়ার কারণে শিক্ষকরা কষ্টে রয়েছেন। প্রতিনিয়ত অনেক শিক্ষক ফোন করে তাদের কষ্টের কথা আমাদের জানান। আমরাও চাই দ্রুত বদলির ফল প্রকাশিত হোক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন।’

শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দপ্তরে গেলেও জাতীয় সংসদে সভা থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি সভায় আছেন বলে জানানো হয়।