০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৪

‘দিনকাল-নিউ এজ পত্রিকায় টেন্ডার নোটিশ কেন’— ক্যান্টিনের দরপত্র না পাওয়ায় মাউশিতে তুলকালাম শ্রমিকদল নেতার

লোগো  © ফাইল ছবি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রধান কার্যালয়ে ক্যান্টিনের দরপত্রকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদলের শেরেবাংলা নগর থানার আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান আক্তারের বিরুদ্ধে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সংস্থাটির মহাপরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়ান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বিএনপির পত্রিকা হিসেবে পরিচিত দৈনিক দিনকালে টেন্ডারের বিজ্ঞাপন দেওয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রীর কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমিকদলের এই নেতা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে শিক্ষা ভবনে যান মোস্তাফিজুর রহমান আক্তার। মাউশির ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে ক্যান্টিনটি পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে নিজের যোগাযোগের কার্ডও দিয়েছিলেন। কিন্তু দরপত্র প্রকাশের সময় তাকে জানানো হয়নি।

মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ, তিনি দেশের বাইরে ওমরাহ পালনে থাকাকালে দরপত্রের প্রক্রিয়া শুরু ও শেষের দিকে এগিয়ে যায়। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। এ সময় তিনি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং শ্রমিকদলের নেতাকর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তার দাবি, ক্যান্টিনটি পেতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরও তাকে দরপত্রের বিষয়ে অবহিত না করায় তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।

তবে শ্রমিকদল নেতার এই দাবির সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন মাউশির কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ক্যান্টিনের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তিকে কৌশলে বাদ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, দরপত্রের সিদ্ধান্ত একটি কমিটির মাধ্যমে নেওয়া হয়; কোনো একক কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে ক্যান্টিন বরাদ্দ দিতে পারেন না।

কথোপকথনের একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি কোন কোন পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে, তা জানতে চান। এ সময় মাউশির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে একটি বাংলা এবং একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশ করা হয়। তবে দৈনিক দিনকাল, নিউএজ পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেন মোস্তাফিজুর রহমান আক্তার। এ ছাড়া নিউএজ পত্রিকা কেউ পড়ে না বলেও দাবি করেন এ নেতা।

তবে কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান। এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত ভাষায় কথা বলেন।

এদিকে শিক্ষা ভবনের অভ্যন্তরে বহিষ্কৃত শ্রমিকদল নেতার এমন কর্মকাণ্ডে আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো মাউশি জুড়ে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, এভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা পরিচয়ে তদবির করতে আসার ঘটনায় তারা বিব্রত। তদবির না রাখলে বদলিসহ দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যা তাদের নিয়মিত কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রমিকদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান আক্তারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে শ্রমিকদলের সহ প্রচার সম্পাদক মফিদুল ইসলাম মোহন জানান, ‘মোস্তাফিজুর রহমান আক্তারের বিরুদ্ধে আগেও অনেক অভিযোগ ছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শ্রমিকদলের পরিচয় দিয়ে থাকলে অন্যায় করেছে।’

শিক্ষা ভবনে বহিষ্কৃত নেতার এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ‘মাউশিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা পরিচয় দিয়ে তদবিরের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এটি বন্ধ না হলে কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।’