২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০০

মাদ্রাসার মতো মাধ্যমিক শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেড দাবি

মাউশি  © ফাইল ছবি

দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। মাদ্রাসা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে চাকরির সময় গণনা করে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিধান থাকলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ভিন্ন শর্ত থাকায় এ বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে বৈষম্য নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর নেতারা।

বুধবার এ দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন দেওয়া হয়েছে। ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর আহ্বায়ক ও বাবেশিকফোর যুগ্ম-মহাসচিব মো. তোফায়েল সরকার এবং সদস্যসচিব ও বাবেশিকফোর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ আবেদন জমা দিয়েছেন।

শিক্ষক নেতাদের দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা একই জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুই ধরনের নীতিমালায় ভিন্ন বিধান থাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকরা আর্থিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ১১.৫ অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে চাকরির সময় গণনা করে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ১১.৭-এ উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে ভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষক নেতাদের দাবি, একই এমপিও ব্যবস্থার আওতায় কর্মরত শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে এমন ভিন্ন বিধান নীতিগত বৈষম্য তৈরি করেছে।

তারা আরও বলেন, বিএড (B.Ed) ডিগ্রি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে বিএড-পরবর্তী সময়কে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করায় অনেক মাধ্যমিক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ অবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে চাকরির সময় গণনা করে প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রদানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

একই সঙ্গে স্কুল ও কলেজের সংশ্লিষ্ট এমপিও নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১১.৭ প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।