২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫

আরও তিন জেলার ১০০ বিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশের’ কার্যক্রম

খান একাডেমি বাংলাদেশ   © সংগৃহীত

সাজেদা ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতা আরও তিন জেলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন করে বগুড়া, কক্সবাজার ও নেত্রকোনা জেলার ১০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত নতুন যুক্ত হওয়া তিন জেলার এসব বিদ্যালয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষকদের গণিত শিক্ষণ দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের গণিত শিখনফল বাড়ানোর লক্ষ্যে এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও পঞ্চগড় জেলার ১৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ কার্যক্রম বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নতুন ১০০টি বিদ্যালয় যুক্ত হওয়ায় কার্যক্রমটি মোট ১০টি জেলার ২৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচালিত হবে।

২২ সেপ্টেম্বর মাউশির সহকারী পরিচালক-৫ মো. খোরশেদ আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রকল্পের আওতায় নিম্নলিখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে—

১। সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় বিদ্যালয় নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়।

২। নির্বাচিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও গণিত শিক্ষকদের খান একাডেমি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং গণিত শিখন-শিক্ষণ দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন।

৩। শিক্ষার্থীদের গণিত শিখনফল বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত গণিত শ্রেণির সঙ্গে সমন্বয় করে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার।

৪। বিদ্যালয়ের বিদ্যমান ডিজিটাল ডিভাইস ও আইসিটি সুবিধা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডিভাইস সেটআপ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান।

৫। শিক্ষার্থীদের জন্য শিখনগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অনুশীলনের ব্যবস্থা।

৬। মাসিক মনিটরিং, বিদ্যালয়ভিত্তিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রদান।

এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কয়েকটি শর্তও দিয়েছে মাউশি। শর্তগুলো হলো—

ক) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা/বাস্তবায়নকালে জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনা পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না;

খ) জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সহায়তায় বিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচিত বিদ্যালয়ের তালিকা মাউশি অধিদপ্তর কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে;

গ) শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটানো যাবে না;

ঘ) অনুমোদিত কার্যক্রমের পরিবর্তন/পরিমার্জন/সংশোধন করার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকা-এর অনুমোদন নিতে হবে;

ঙ) খান একাডেমি বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতা কিংবা মেয়াদ বৃদ্ধি/হ্রাস করার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে;

চ) খান একাডেমি বাংলাদেশের কার্যক্রম উপজেলা/জেলা/আঞ্চলিক কার্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্তৃক নিয়মিত তদারকি করা হবে;

ছ) প্রস্তাবিত কার্যক্রম তদারকির ক্ষেত্রে বাস্তবায়নকারী সংস্থা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে এবং এ-সংক্রান্ত ব্যয়ভার বহন করবে;

জ) এই কার্যক্রমের ত্রৈমাসিক/বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন আবশ্যিকভাবে মাউশি অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করতে হবে;

ঝ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর যেকোনো সময় এ কার্যক্রম বাতিল করতে পারবে;

ঞ) সরকার প্রদত্ত সুরক্ষা বিধিমালা ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

আদেশে বলা হয়েছে, মহাপরিচালকের নির্দেশক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, খান একাডেমি বাংলাদেশ প্রকল্প, সাজেদা ফাউন্ডেশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।