কোনোটির প্রতিষ্ঠা সতেরোশ’ শতকে, কোনোটির আঠারোশ’— দেশের সবচেয়ে পুরোনো ১০ স্কুলের কোনটির বয়স কত?
দেশের শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ তালিকা ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা থেকে যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। তালিকার সবচেয়ে পুরোনো স্কুলটির বয়স ২২৭ বছর। ১৭০ বছরের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৮টি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মাউশি থেকে এ সংক্রান্ত তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। বিষয়টি মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন।
মাউশির পাঠানো স্কুলের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৮০৮টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগের প্রতিষ্ঠান। ঢাকা বিভাগের ১৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকায় স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের ১৫৯টি, খুলনার ১২৬, রাজশাহীর ১০১, ময়মনসিংহের ৭৪, বরিশালের ৬৯, রংপুরের ৬৯ এবং সিলেট বিভাগের ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকায় স্থান পেয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে পুরোনো স্কুল হিসেবে রয়েছে দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার কেরী মেমোরিয়াল হাই স্কুল। ১৭৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ২২৭ বছরে পা দিয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বগুড়া জেলার সদর উপজেলার বগুড়া পৌর উচ্চ বিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়। দুটি বিদ্যালয়ই ১৮৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। সে হিসেবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠান দুটির বয়স ১৮২ বছর।
তালিকার তৃতীয় পুরোনো স্কুল চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার পটিয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বয়স বর্তমানে ১৮১ বছর। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী সদর উপজেলার বোয়ালিয়া থানায় অবস্থিত রাজশাহী লোকনাথ উচ্চ বিদ্যালয়। রাজশাহীর অন্যতম প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৮৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে রাজধানীর সূত্রাপুরের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ঢাকা শহরে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বেসরকারি বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি ১৮৪৮ সালে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে স্কুলটির বয়স ১৭৮ বছর। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মোহিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ১৮৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি বর্তমানে ১৭৬ বছরের পুরোনো।
তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বর্তমান বয়স ১৭৫ বছর। অষ্টম অবস্থানে রয়েছে নাটোর জেলার সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া পি.এন উচ্চ বিদ্যালয়। ১৮৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ১৭৪ বছরের পুরোনো। নবম অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানাধীন সেন্ট প্ল্যাসিডস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ১৮৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির বয়স বর্তমানে ১৭৩ বছর।
দশম পুরোনো স্কুলের তালিকায় কুষ্টিয়া জেলার দুটি স্কুল রয়েছে। এরমধ্যে একটি ভেড়ামারা উপজেলায় অবস্থিত ধরমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অপরটি হলো কুমারখালী উপজেলার কুমারখালী এম এন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। দুটি স্কুলই প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৬ সালে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠার ১৭০ বছরে রয়েছে।
শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখুন এখানে
এর আগে গত ২৫ আগস্ট শতবর্ষী স্কুল ও কলেজের তালিকা প্রস্তুত করতে মাউশিকে নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, শতবর্ষী স্কুল-কলেজ নিয়ে সরকার নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠাতে বলা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ চিঠি অধিদপ্তরে পৌঁছেছে সেপ্টেম্বরের শুরুতে। এরপর ২ সেপ্টেম্বর মাউশি অধিদপ্তর থেকে সব অঞ্চল পরিচালক, উপপরিচালককে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে ২ কর্মদিবসের মধ্যে শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠাতে বলা হয়।
মাউশি অধিদপ্তরের সব অঞ্চল ছাড়াও বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ৮০৮টি শতবর্ষী বেসরকারি স্কুল-কলেজের তালিকা পাঠানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।