১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪২

স্কুল ভর্তিতে নতুন নিয়ম, তিন বিষয়ে দিতে হবে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা

শিক্ষার্থী  © ফাইল ছবি

প্রথম শ্রেণি বাদে অন্যান্য শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ছয় বছর পর দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনছে সরকার। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে এখন মেধা যাচাইয়ে নেওয়া হবে পরীক্ষা। তিন বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়নে তৈরি হবে মেধাতালিকা। পরবর্তীতে এই তালিকা অনুযায়ী স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একটি খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করছে মাউশি। এ নীতিমালাটি আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ভর্তি নীতিমালা জারি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

সূত্রের তথ্য বলছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত এই তিন বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। এক্ষেত্রে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘একটি খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে মন্ত্রণালয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করা হবে।’

এদিকে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষা ফেরানো নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একপক্ষ লটারি পদ্ধতি ভালো ছিল বলে দাবি করলেও, আরেকপক্ষ ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি ফেরানোয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করছেন।

দুই পক্ষের এমন আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে অভিভাবকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তর অর্থাৎ প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা যেত। ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সম্ভব না হলেও তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা বহাল রাখার দাবি তাদের। এ ছাড়া অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল রাখা যেতে পারে।

তবে পুরোপুরি ভিন্নমত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, পরীক্ষা পদ্ধতি ফেরানোয় ভর্তিতে যেমন দুর্নীতি-অনিয়ম বাড়বে, তেমনি কোচিং বাণিজ্য শুরু হবে। পাশাপাশি কোমলমতি শিশুরা পরীক্ষার চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। পাশাপাশি শিক্ষাখাতেও বৈষম্য বাড়বে। সিটি করপোরেশন নামি-দামি স্কুলে শুধুই ধনীদের সন্তানই পড়বে, আর গরিবরা নামকাওয়াস্তে চলা স্কুলে সন্তানদের পড়াতে বাধ্য হবেন।

লটারি এবং পরীক্ষা কোনোটিই শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়টি সমাধান করতে পারবে না জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বাড়ির পাশের প্রতিষ্ঠানের মান বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি স্ট্যান্ডার্ড মানে নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী রেশিও, ভালো মানের শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করতে হবে। এটি করা গেলে শিক্ষার্থীরা দূরের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়ে নিজ বাড়ির কাছাকাছি কোনো প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হবে।

এ শিক্ষাবিদ আরও বলেন, মন্ত্রী, আমলাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সন্তানদের তাদের বাড়ির পাশের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা দরকার। এটি করলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মান রাতারাতি বেড়ে যাবে। আমরা আসল সমস্যা সমাধান না করে ভর্তি পরীক্ষা বা লটারি নিয়ে ভাবছি। এটি পরিবর্তন করতে হবে। এখন সময় এসেছে এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার।

জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেখানে প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেখানে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও চালু হয় একই পদ্ধতি।

তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনো পরীক্ষার মাধ্যমেই হতো। করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এখন থেকে প্রথম শ্রেণি বাদে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।