কারিগরিতে বদলির ক্ষেত্রে নম্বর বণ্টন, স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রেও কি প্রযোজ্য
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বদলির ক্ষেত্রে নারী, দূরত্ব, স্পাউজের কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষকদের বেলায় এ বিষয়গুলোকে নম্বরের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রেও এই মার্কিং প্রযোজ্য হবে কিনা সেটি নিয়ে।
বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তিন কর্মকর্তার সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, কারিগরি বদলির সাথে স্কুল-কলেজের বদলির কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে তারা কোন পদ্ধতি অবলম্বন করছে, বা কীভাবে মার্কিং করছে তার সঙ্গে স্কুল-কলেজের বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ‘স্কুল-কলেজে বদলির ক্ষেত্রে মার্কিংয়ের কোনো বিষয় নেই। বদলি নীতিমালায় নারী, দূরত্ব এবং জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সে অনুযায়ী শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন। একই স্কুলে দুইজন প্রার্থী হলে কীভাবে প্রার্থী বাছাই করা হবে সেই বিষয়টিও নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার বা দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন।’
জানা গেছে, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে, নারীর ক্ষেত্রে ৩৫ পয়েন্ট, স্পাউজের কর্মস্থলের ক্ষেত্রে ৩০ পয়েন্ট, দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি ৫০ কিলোমিটারের জন্য ১ পয়েন্ট এবং জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে প্রতি বছরের জন্য ১ পয়েন্ট করে ধরা হবে। তবে এটি স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
এদিকে স্কুল-কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় নতুন করে বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুইদিন নতুন করে আবেদনের সুযোগ পাবেন শিক্ষকরা। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের বদলি করবে সরকার।
মাউশি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষকদের বদলি আবেদন শেষ হওয়ার পর নতুন করে আর সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। ফলে ১৩ সেপ্টেম্বর আবেদন শেষ হওয়ার পরই ওই সপ্তাহের মধ্যেই শিক্ষকদের বদলি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বদলি হওয়ার জন্য ১০ দিন সময় পাবেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বদলি আবেদনগ্রহণ শেষ হওয়ার দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে বদলির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক মুহূর্তও দেরি করার পরিকল্পনা আমাদের নেই। যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের বদলি করা হবে।’