বদলি আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া প্রধানরা কি শাস্তির আওতায় আসবেন
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে ভুল আবেদন দিয়েছেন অসংখ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান। এতে বদলি আবেদনে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে শিক্ষকদের। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষকদের ক্ষোভের বিষয়টি অনুধাবন করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারাও। তারা বলছেন, বদলি আবেদনে যে সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে তার ৯৫ শতাংশই প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণে হয়েছে। শূন্য পদ না থাকলেও পদ ফাঁকা দেখানো হয়েছে। আবার পদ ফাঁকা থাকলেও তথ্য দেওয়া হয়নি।
কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বারবার নির্ভূলভাবে তথ্য প্রদানের তাগাদা দেওয়া হলেও তারা ভুল করেছেন। এ ভুলগুলোর কারণে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মত তাদের।
জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘কেউ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল তথ্য দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দিতে হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ২৭ আগস্ট বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় দুইদিন বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষকরা নতুন করে বদলি আবেদন করতে পারবেন। তবে যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন তাদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে মাউশি।
মাউশি পরিচালক প্রফেসর মো. সাখাওয়াত হোসেন খান হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদনের তথ্য সংশোধন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি। উপযুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের (প্রতিষ্ঠান প্রধান/সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান/ প্রদর্শক/ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সকল শিক্ষক) বদলির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত) অনুযায়ী টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় প্রস্তুতকৃত সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। জারিকৃত বদলি নীতিমালা অনুযায়ী বদলি হতে ইচ্ছুক শিক্ষকগণ http://ngttdshe.teletalk.com.bd এই লিংকে তাদের মোবাইলে প্রেরিত ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ২১ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন দাখিল করতে পারবেন। শিক্ষকগণের বদলির সুবিধার্থে শিক্ষকগণের আবেদনের ব্যক্তি পর্যায়ের তথ্য (নিজ জেলা, স্বামী/স্ত্রী জেলা ও কর্মস্থল, মোবাইল নম্বর) এর ত্রুটি সংশোধন ও পুনঃ আবেদনের সময়সূচী নিম্নরূপ:’
স্কুলের প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তথ্য ইনপুট, ভেরিফাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদন করতে পারবেন ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা তথ্য ইনপুট, ভেরিফাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদন করতে পারবেন ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তথ্য ইনপুট, ভেরিফাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদন করতে পারবেন ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর। আঞ্চলিক উপপরিচালক (কলেজ), আঞ্চলিক পরিচালকগণ তথ্য ইনপুট, ভেরিফাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদন করতে পারবেন ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শিক্ষকরা বদলি আবেদন করতে পারবেন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর।