মাউশির নিয়মিত ডিজি হতে দৌড়ঝাঁপ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের, তালিকায় ৪ নাম
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নিয়মিত মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রশাসনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মাউশির নিয়মিত ডিজি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে; যার অংশ হিসেবে শিক্ষা ক্যাডারের সম্ভাব্য তিন কর্মকর্তার নামের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। এই তালিকা থেকেই একজনকে নিয়মিত ডিজি হিসেবে পদায়ন করা হতে পারে জানা গেছে।
বর্তমানে মাউশি ডিজির চলতি দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক ড. সোহেল গত ১৬ এপ্রিল মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় ২৩ এপ্রিল তাকে ডিজির চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠে অধ্যাপক সোহেলের বিরুদ্ধে; যে বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
শিক্ষা প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অধ্যাপক ড. সোহেল মাউশি ডিজির চেয়ার ধরে থাকতে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শীর্ষ এক কর্মকর্তার মাধ্যমে বগুড়াকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী বলয়ের সহায়তায় ডিজির পদে থাকার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যদিও মাউশি ডিজির পদে থাকা বা নতুন কাউকে এ পদে পদায়নের বিষয়টি নিয়মিত ঘটনা বলে দাবি করেন অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘সরকার যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই পদায়ন করবে। এখানে তদবিরের কোনো বিষয় নেই।’
নিয়মিত ডিজি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাউশির নিয়মিত ডিজি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম। তিনি বিসিএস ১৬ ব্যাচের কর্মকর্তা। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তিনি সরকারের বিবেচনায় এগিয়ে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডিজি হওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন মাউশির কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হক। তিনিও বিসিএস ১৬ ব্যাচের কর্মকর্তা। শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ডিজি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো: জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসনিক কাজে তার অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানা গেছে।
মাউশি ডিজির চেয়ার পদে আলোচনায় রয়েছেন অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলনের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। এছাড়া অধ্যাপক সোহেল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ইতিবাচক খবরও প্রচার করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত স্বপদে থাকতে পারবেন অধ্যাপক সোহেল নাকি নতুন নিয়মিত ডিজি পাবে মাউশি— সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর নেবে।
বঞ্চিত ১৪ ও ১৫ বিসিএস কর্মকর্তারা
মাউশি ডিজির পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পদে শিক্ষা ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদায়নের রেওয়াজ থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে সেটি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ ও ১৫তম বিসিএসের অনেক কর্মকর্তা কর্মরত থাকলেও পদায়নের ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে বিসিএস ১৬ ব্যাচের কর্মকর্তাদের আধিক্য দেখা গেছে।
মাউশির ডিজি ছাড়াও কলেজ ও প্রশাসন শাখা, অর্থ শাখা, মাধ্যমিক শাখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন পাচ্ছেন বিসিএস ১৬ ব্যাচের কর্মকর্তারা। এর ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন ১৪ ও ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা। দাবি উঠেছে মাউশি ডিজির পদটিতে শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ অথবা ১৫ ব্যাচের কাউকে পদায়নের।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ ব্যাচের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সব চাকরিতেই পদোন্নতি-পদায়নের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা মানা হলেও শিক্ষা ক্যাডারদের ক্ষেত্রে এটি মানা হয় না। সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকলেও এটি মানা উচিত। এটি না হলে শিক্ষা প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাউশি ডিজি পদে ১৪ বিসিএসের যোগ্য কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া উচিত।’
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, মাউশির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত মহাপরিচালক নিয়োগ শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ফলে এ নিয়োগকে ঘিরে শিক্ষা ক্যাডারের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।