২৪ জুন ২০২৬, ১৭:৫২

মনিপুর স্কুলে পাঁচ বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ দিল সরকার

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ  © সংগৃহীত

রাজধানীর অন্যতম শীর্ষ ও বিতর্কিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি পৃথক শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার জন্য বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচজন সরকারি কলেজের শিক্ষককে ‘শাখা প্রধান’ হিসেবে স্ব-বেতনে প্রেষণে নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার (২৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (সরকারি কলেজ-১ শাখা) উপসচিব মো. আ. কদ্দুস স্বাক্ষরিত এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। এর ঠিক তিন দিন আগে গত ২১ জুন প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক তদারকির জন্য দুই বছর মেয়াদি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা দূর করতে এবং শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করতে মূল ক্যাম্পাসের প্রধান শিক্ষক ছাড়া বাকি ৫টি শাখার জন্য এই ৫ কর্মকর্তা শাখা প্রধান হিসেবে কাজ করবেন। তারা স্ব-স্ব শাখার প্রধান আয়-ব্যয়ন কর্মকর্তা (ডিডিও) এবং প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এর মধ্যে হাজারীবাগ সরকারি কলেজের সংযুক্ত সহযোগী অধ্যাপক (বাংলা) মো. আব্দুল হালিমকে মূল বালক ক্যাম্পাসের (মনিপুর ৬০ ফিট রোড) শাখা প্রধান করা হয়েছে। কুমিল্লার দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা) মো. নজরুল ইসলামকে কলেজ ক্যাম্পাসের (রূপনগর আবাসিক এলাকা) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের ইনসিটু সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) মোহাম্মদ আক্তার হোসেনকে রূপনগরের শাখা-১ ক্যাম্পাসে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (রসায়ন) শেখ শাহরীয়ার হাসানকে ইব্রাহিমপুরের শাখা-২ ক্যাম্পাসে এবং টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সহকারী অধ্যাপক (দর্শন) মুহাম্মাদ নুর-এ-আলমকে শেওড়াপাড়ার শাখা-৩ ক্যাম্পাসের শাখা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এই প্রেষণে নিয়োগের আগে ২১ জুন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠানটির জন্য যে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, তার সভাপতি করা হয়েছে ম. হামিদুল হক মানিককে (যিনি এর আগে এডহক কমিটির সভাপতি ছিলেন)। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক-৩), মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক এবং ঢাকা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক। এ ছাড়া শিক্ষক প্রতিনিধি শামীমা আহমেদ, অভিভাবক প্রতিনিধি শাকিল মোল্লা সদস্য হিসেবে এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

মনিপুর স্কুলের ওপর সরকারি এই কঠোর হস্তক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর তদন্ত প্রতিবেদন। গত ১৭ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, প্রতিষ্ঠানটির মোট ৬৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জনই (শতকরা ৯৮ ভাগ) সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়ায়, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিয়োগ পেয়েছেন। একই সাথে একাডেমিক উন্নয়ন, নগর ভাতা, পরিচালনা কমিটির অবৈধ সম্মানী ভাতা ও ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির তহবিল থেকে মোট ৬০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক অনিয়ম ও লুটের তথ্য মিলেছে। এই ভয়াবহ দুর্নীতির প্রতিবেদনটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর ঢাকার অন্যতম বড় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার এই সরাসরি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।