২৪ মে ২০২৬, ১৭:০৮

৫০০ টাকার নিচে ব্যাবহারিক খাতায় স্বাক্ষর করছেন না স্কুলের শিক্ষকরা

পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ  © টিডিসি ফটো

চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাবহারিক খাতায় স্বাক্ষরের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৩ মে) দুপুরে ব্যাবহারিক খাতা স্বাক্ষর বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা আদায়ের বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের কাছে স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও কৃষি বিষয়ের ব্যাবহারিক পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষার আগে ব্যাবহারিকের খাতায় শ্রেণি শিক্ষকের স্বাক্ষর নিতে হয়।

ফরম পূরণের সময় সব ফি পরিশোধ করেই আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। এখন আবার ৫০০ টাকা ছাড়া স্যাররা খাতায় সাইন করছে না। শিক্ষকদের কাছে এটা হয়তো সামান্য টাকা, কিন্তু এখানে অনেক দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী আছে। স্যাররা সবার কাছ থেকেই জোর করে টাকা আদায় করছে। এর প্রতিবাদ করলে ব্যাবহারিকে আমাদের নাম্বার কমিয়ে দিতে পারে। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলছে না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্কুলের এক শিক্ষক জানান, আমাদের স্কুলের ৫৪ জন পরীক্ষার্থী। প্রিন্সিপাল স্যার বলছে ব্যাবহারিকের খাতায় স্বাক্ষর করা বাবদ সবার কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে তুলতে। কিছু শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে টাকা জমা দিয়েছে। বাকিরা দুই-একদিনের মধ্যে টাকা জমা দেবে।

পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম বলেন, এটা সিওমার্কের ফটোকপিসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানেই এটা নেওয়া হয়। আমরাও নিচ্ছি। এটা নেওয়া আইনগতভাবে বৈধ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও খোঁজ নিতে পারেন। এটা সবাই নেয়।

মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ৫০০ টাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাবহারিকের খাতা স্বাক্ষরের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।