বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার স্কুল-কলেজে র্যাগ ডে বন্ধ হচ্ছে
দেশের সবগুলো সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগ ডে উদ্যাপনের নামে সকল ধরনের অশ্লীলতা, নগ্নতা, ডিজে পার্টি, অশোভন আচরণ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ২০২২ সালে এই নির্দেশনা দেওয়ার আগে দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং নিয়ে দীর্ঘ যাবৎ নানা সমালোচনা চলছিল।
এবার দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগ ডে-এর নামে বিশৃঙ্খলা রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ লক্ষে মাউশির আওতাধীন অঞ্চলের জেলা/উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ পদক্ষেপের বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ একসাথে কম্পাইল করে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে নির্দিষ্ট ছক মোতাবেক পাঠাতে বলছে মাউশি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগ ডে-এর নামে বিশৃঙ্খলা রোধের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ইভটিজিং প্রতিরোধ ও ছাত্র-ছাত্রীদের রাতে পড়াশুনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির অগ্রগতিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
'র্যাগিং' বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আপত্তি থাকলেও 'র্যাগ-ডে' নিয়ে তাদের কখনো আপত্তি ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে র্যাগ-ডে হচ্ছে একটি বিশেষ দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থীরা এ দিনে নানা আয়োজন করে। স্কুল-কলেজেও এ ধরনের আয়োজন করতে দেখা যায়।
সম্প্রতি মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন উইং থেকে দেশের সকল আঞ্চলিক পরিচালক ও আঞ্চলিক উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার সাথে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভার গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে মাদকের কুফল সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণা বৃদ্ধি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত মাদকবিরোধী ডকুমেন্ট্রি ও মাদকবিরোধী থিম সং প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ইভটিজিং প্রতিরোধ ও র্যাগ ডে-এর নামে বিশৃঙ্খলা রোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতির পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের রাতে পড়াশুনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত তথ্য আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে ই-মেইলে (director.mew@gmail.com) প্রেরণ করা প্রয়োজন।
‘‘এমতাবস্থায় তার আওতাধীন অঞ্চলের জেলা/উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্ণিত পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ একসাথে কম্পাইল করে উল্লিখিত তারিখের মধ্যে নিম্নোক্ত ছক মোতাবেক প্রেরণের জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হল।’’
ছকের মধ্যে রয়েছে-অঞ্চলের নাম, অঞ্চলের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান, প্রতিবেদনের বিষয় বাস্তবায়নকৃত প্রতিষ্ঠানের শতকরা হার, প্রতিবেদনের বিষয় বাস্তবায়ন করতে না পারা প্রতিষ্ঠানের শতকরা হার (যদি থাকে) এবং না পারার কারণ এবং মন্তব্য।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩ জুলাই ‘র্যাগ ডে’ উদ্যাপনের নামে অশোভন আচরণ, অশ্লীলতা, নগ্নতা, ডিজে পার্টি, নিষিদ্ধ ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড এবং বুলিং (উত্ত্যক্ত করা) বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল ইউজিসি। কমিশনের এক চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই নির্দেশ দেয়। উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল চিঠিতে।
এর আগে, একই বছরের ৭ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগ ডের নামে ডিজে পার্টি, উদ্দাম নৃত্য, বুলিং, অশ্লীলতা ও নগ্নতা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ কামরুল হাসান। পরে ১৭ এপ্রিল ৩০ দিনের মধ্যে র্যাগ ডের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং, নগ্নতা ও অপসংস্কৃতি বন্ধের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।