০৮ মার্চ ২০২৬, ১৩:১৫

মাউশির ২০২০ সালের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশের দাবি

মাউশির নিয়োগ প্রত্যাশীদের মানববন্ধন  © টিডিসি সম্পাদিত

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অধীনে ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় প্রদর্শক, গবেষণা সহকারী, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম-ক্যাটালগার ও ল্যাবরেটরি সহকারী (১০ম গ্রেড) পদে নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থীরা চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। রবিবার (৮ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও শিক্ষা ভবনের সামনে তারা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। 

প্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১০১.১১.০০২.১৯-১৯২২৮) অনুযায়ী মোট ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৪ হাজার ৩২টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা ২০২১ সালের মার্চে শুরু হয়ে ২০২২ সালের মে মাসে শেষ হয়।

পরবর্তীতে ওই বিজ্ঞপ্তির আওতায় চারটি ক্যাটাগরির ৬১০টি পদ ছাড়া বাকি সব পদের নিয়োগ কার্যক্রম ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট সম্পন্ন হয়। এসব পদের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে চাকরিতে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অবশিষ্ট চারটি পদের লিখিত পরীক্ষার ফল ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ৪ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।

প্রার্থীদের দাবি, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর কোটা সংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তি হয় এবং ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল ডিপিসি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। তবুও ফল প্রকাশে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নিয়োগ প্রত্যাশী প্রায় ৭ হাজার প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে রয়েছেন বলে জানান। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় ছয় বছর এবং মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় ২০ মাস পেরিয়ে যাওয়ায় অনেক প্রার্থীর চাকরির বয়সসীমাও ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে।

তাদের অভিযোগ,  ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রার্থীরা ২০২৫ সালের ১৭ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে ২৯ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন। তবে এরপরও ফল প্রকাশে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে তাদের অভিযোগ।

তারা আরও জানান,  প্রার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল ২০২৫ সালের ১০ জুলাই মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দাবিতে আবেদন জমা দেয়। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে একটি রিট দাখিল করা হয়। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট হাইকোর্ট শিক্ষার্থীদের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মাউশি লিখিতভাবে জানায়, দুদকের তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকায় তারা চূড়ান্ত ফল প্রকাশে অপারগ।

এরপর ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আরেকটি নির্দেশনা জারি করে, যেখানে দুদককে মামলার চতুর্থ পক্ষ করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন মাউশিতে জমা দেওয়ার জন্য ৯০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়। দুদক ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের কপি গ্রহণ করে।