শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ এনটিআরসিএর, বদলিতে প্রভাব ফেলবে কি?
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বা এনটিআরসিএ। আগামী সপ্তাহে এ কার্যক্রম শুরু করবে সংস্থাটি। ফলে এই শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ বদলিতে প্রভাব ফেলবে কি না সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং এনটিআরসিএর একাধিক কর্মকর্তারা সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও এটি বদলির ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কেননা শিক্ষক নিয়োগের শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশ করতে বেশ সময় লেগে যাবে। শিক্ষকদের বদলি তার আগেই সম্পন্ন হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরীক্ষা আয়োজন করে ফল প্রকাশ এবং পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ—সবমিলিয়ে ছয় থেকে আটমাস লেগে যেতে পারে। আর বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম আগামী তিনমাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষক নিয়োগের আগেই বদলি কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। বদলি সফটওয়্যার তৈরির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বদলি চালু করা সম্ভব হবে বলে মনে করছি।’
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নতুন শিক্ষক নিয়োগের শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও এটি বদলির জন্য বাধা হবে না। শূন্য পদের তথ্য নেওয়া হলেও নিয়োগ সুপারিশের আগ পর্যন্ত সেটি উন্মুক্তই থাকবে। ফলে ওই পদগুলোর বিপরীতে শিক্ষকরা বদলি হতে পারবেন। তবে বদলির কারণে নতুন শিক্ষকদের নিজ জেলার বাইরে সুপারিশ পেতে পারেন।’
জানা গেছে, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের আগে বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে তারা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আবেদন করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বদলি চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য একটি বদলি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। তবে শিক্ষকদের এক পক্ষের রিট, সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া, নীতিমালা সংশোধনসহ একাধিক কারণে এখনো বদলি কার্যক্রম শুরু হয়নি। বদলির জন্য সংশোধিত নীতিমালা জারি হলেও সফটওয়্যার তৈরি না হওয়ায় এ কার্যক্রম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।