সিজারের পর যমজ সন্তানের একজন উধাও, ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার
নওগাঁয় সিজারিয়ান অপারেশনের পর যমজ নবজাতকের একজনের খোঁজ না পাওয়ার ঘটনায় এক ওয়ার্ড বয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ওই নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দাখিল করেন।
গ্রেপ্তারকৃত জিহাদ হোসেন জেলার আত্রাই উপজেলার মুসকিপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে।
জানা যায়, শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর পৃথক ভাবে দুইটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ থাকার তথ্য উল্লেখ ছিল। এমনকি দুটি ভ্রূণের হৃদস্পন্দন ও সম্ভাব্য ওজনও আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়। এরপর চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তার স্ত্রীকে বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি কন্যাশিশু হস্তান্তর করা হলেও অপর নবজাতকের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
নবজাতকের মা শান্তনা আক্তার জানান, সিজারের আগে তাকে যমজ সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছিল। সিজারের পর একটি শিশুকে দেখানো হলে অপর শিশুর বিষয়ে জানতে চান তিনি। এ সময় তার পেটের অস্ত্রোপচারের ক্ষত সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয়। বিষয়টি মেনে না নিলে তাকে ওই অবস্থায় রেখে দেওয়ার কথাও বলা হয়।
ওই নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম বলেন, নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর একটি বাচ্চাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর বাচ্চার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দিচ্ছেন।
তবে বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, রোগীর চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন এবং তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন। সন্তান একটি নাকি দুটি হয়েছে। সে বিষয়ে চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি।
নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিন্টু রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর পর একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।