০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৫১

পাহাড়ে তিন মরদেহ থাকার খবর, তল্লাশি চালিয়ে যা যা পেল যৌথ বাহিনী

পাহাড়ে তিন মরদেহ থাকার খবরে যৌথ বাহিনীর অভিযান  © টিডিসি ফটো

কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা-রঙ্গিখালীর দুর্গম পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও কোনো মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। 

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান শেষ করে ফিরে আসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ের ভেতরে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনো মরদেহের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কেউ মরদেহ সরিয়ে ফেলেছে কি না, সে ধরনের কোনো তথ্যও পুলিশের কাছে নেই।

শনিবার সকাল ৭টা থেকে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গিখালী এলাকার পাহাড়ে এ অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন ভুট্টা বলেন, সকাল থেকেই তিনি অভিযানে যান। পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। সেখানে রান্না করা দু-একটি পাতিল ও বিছানার মতো কিছু জিনিস পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের ভেতরে অনেক দুর্গম জায়গা রয়েছে। সেখানে মরদেহ থাকলেও খুঁজে বের করা কঠিন। আবার মরদেহ থাকার খবর পেয়ে পাচারকারীরা আগেই সেগুলো সরিয়ে ফেলতে পারে। পাহাড়ের প্রতিটি পথ ও জায়গা পাচারকারীদের পরিচিত।

তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, বন্দিশালার আশপাশে তিনি তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। গোলাগুলির ঘটনায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলেও শুনেছেন। তবে মরদেহগুলো মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের, নাকি বন্দিদশা থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

এদিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও কোনো সন্ধান না মেলায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। লেদার বাসিন্দা মো. আব্দুল হামিদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৌঁছানোর আগেই সেখানে মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরাও সেখানে মরদেহ পড়ে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাহলে মরদেহগুলো গেল কোথায়?
এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারকারীদের গোপন বন্দিশালায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। সেখান থেকে ৫৬ জনকে উদ্ধার এবং পাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি হয়। এতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।