০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬

জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, তথ্য দেওয়ার সন্দেহে সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম

সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ফারুক শেখ  © সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে অবৈধ জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়ার পর পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সন্দেহে আব্দুল্লাহ ফারুক হোসেন নামের এক সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০-১২ জনের একটি দল তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহত আব্দুল্লাহ ফারুক শেখ মোল্লাহাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এবং গ্রিন টিভি ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার মোল্লাহাট উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। 

আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ফারুক হোসেন বলেন, মোল্লাহাট উপজেলার গিরিশনগর দ্বীপচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানীয়ভাবে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জুয়ার আসর বসায়। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই জুয়ার আসর পণ্ড করে দেয়। পুলিশের এই অভিযানের পেছনে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ফারুকের হাত রয়েছে এবং তিনিই পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন—এমন সন্দেহ থেকেই জুয়াড়ি চক্রটি তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ‘এমন সন্দেহের জের ধরে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিক জুয়াড়ী ফারুক শেখ, কবির ও আহাদসহ ১০-১২ জনের এক চক্র ডেকে নিয়ে মারধর করে। এমনকি গলায় গামছা বেঁধে হত্যা চেষ্টা চালায়। এ সময় ডাকচিৎকার আশপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে। এখবর পেয়ে পুলিশ আমাকে তাদের গাড়ীতে করে থানায় নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসার জন্য মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই। জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন সন্দেহের বশে আমার ওপর জুয়াড়ি চক্রটি হামলা চালিয়েছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

এ ঘটনায় সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ফারুক হোসেন বাদি হয়ে হামলাকারী তাতীঁলীগে নেতা ফারুক শেখ, কবির ও আহাদসহ ১০-১২ জনের নামে মোল্লাহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। 

এদিকে গ্রিনন টিভি ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার মোল্লাহাট উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ফারুক হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের সভাপতি জিন্নুরাইন ও সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ ক্লাবের সদস্যরা। তারা হামলায় জড়িত জুয়াড়ি ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা। 

এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।