অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক্স-ফোর্সেস এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মেজর মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন (অব.) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ ভাসমান অবস্থায় থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে টঙ্গী নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
তাহসিফ সৌরীর মৃত্যু স্বাভাবিক, দুর্ঘটনাজনিত নাকি হত্যাকাণ্ডের ফল, তা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তের আগে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করতে হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, উদ্ধার করা আলামত এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটন করতে হবে।
এ ঘটনায় কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চেয়েছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন। কোনো সদস্য বা তার পরিবার হুমকি, হয়রানি কিংবা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ জানালে তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো সদস্যের অকালমৃত্যু যেমন গভীর বেদনার, তেমনি মৃত্যুর কারণ অজানা থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
তদন্তের সক্ষমতার বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা শাখাগুলো নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী সমন্বিতভাবে কাজ করলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব।
তাহসিফ সৌরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ী কেউ থাকলে তাদের জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দ্রুত, দৃশ্যমান ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন।