২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১

পুলিশের পোশাকে কুরিয়ার অফিসে অভিযান, পার্সেল নিতে গিয়ে ধরা কনস্টেবল

গ্রেপ্তার কৃষাণ বড়ুয়া  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে র‍্যাব ও পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে জোরপূর্বক তিনটি পার্সেল কার্টন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে কৃষাণ বড়ুয়া (২৭) নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে এস এ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার কৃষাণ বড়ুয়া কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের আইসিটি শাখায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। তার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। এ ঘটনায় নোটন বড়ুয়া নামে আরেক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এস এ পরিবহন কাজীর দেউড়ি শাখার ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত স্টিকার লাগানো একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি তাদের কার্যালয়ে আসেন। তাদের একজনের পরনে পুলিশ লেখা হাফহাতা জ্যাকেট এবং অন্যজনের গায়ে র‍্যাবের লোগোযুক্ত কালো টি-শার্ট ছিল। নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা কার্যালয় থেকে তিনটি পার্সেল কার্টন জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিলে কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যবস্থাপক আরও জানান, পরে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ওই ব্যক্তিরা নিজেদের চান্দগাঁও থানার পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। তবে কোতোয়ালী থানা পুলিশের বাইরে অন্য থানা বা বাহিনীর সদস্যদের সেখানে আসার কারণ জানতে চাওয়া হলে তারা চলে যান।

এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ লেখা জ্যাকেট পরা কৃষাণ বড়ুয়া একাই আবার কার্টনগুলো নিতে কার্যালয়ে আসেন। এ সময় ব্যবস্থাপক কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে আটকে রেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এস এ পরিবহন কর্তৃপক্ষের করা মামলায় গ্রেপ্তার কনস্টেবল কৃষাণ বড়ুয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপর ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে এস এ পরিবহন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের গ্রাহকদের মালামাল র‍্যাব-পুলিশ পরিচয়ে পথরোধ করে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত সেপ্টেম্বর মাসেও র‍্যাব পরিচয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে কিছু কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ ও এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে পার্সেলগুলোতে কী ধরনের মালামাল ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।